দশ বছর পর এমন এক ম্যানচেস্টার ডার্বি, যার আগে সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন না পেপ গুয়ার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্বে নতুন মুখ এনজো মারেস্কা। অন্য দিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল কারিক—দলের দায়িত্বে তাঁর প্রথম পূর্ণ মরসুম। ফলে রবিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ডার্বি শুধু দুই শহর-প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই নয়, বরং ম্যানচেস্টার ফুটবলের নতুন যুগের প্রথম বড় পরীক্ষা।
গুয়ার্দিওলার বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো এবার ম্যানচেস্টারের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাবে। কিন্তু মরসুমের শুরু বলছে অন্য কথা। নতুন কোচ মারেস্কার অধীনে লিগে এখনও নিখুঁত রেকর্ড সিটির। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও প্রথম ম্যাচ জিতেছে তারা। ডার্বিতে ইউনাইটেডকে হারাতে পারলে চার ম্যাচ পরেই দুই দলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াবে ১২ পয়েন্ট। মরসুমের এত শুরুতেই যা কারিকের দলের জন্য বড় চাপ।
গুয়ার্দিওলার প্রায় এক দশকের রাজত্বে সিটি ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছিল। সাত মরসুমের মধ্যে ছ’বার প্রিমিয়ার লিগ জেতা তারই প্রমাণ। তাঁর বিদায় তাই ইউনাইটেডের সামনে পুরনো গৌরব ফেরানোর বড় সুযোগ বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে গেলে কারিককে আগে নিজের দলের অনিয়মগুলিবন্ধ করতে হবে।
গত মরসুমের দ্বিতীয়ার্ধে কারিকের অধীনে দারুণ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ইউনাইটেড। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়ে মরসুম শেষ করে তারা। কিন্তু নতুন মরসুমে শুরুটা আবার সেই পুরনো সমস্যার মতো। প্রথম ম্যাচেই সদ্য প্রিমিয়ার লিগে ওঠা হালের কাছে হার। ইপ্সউইচের বিরুদ্ধে জয় এলেও এভার্টনের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র। দু’বার এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে পারেনি ইউনাইটেড। ধারাবাহিকতার অভাবই তাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।
তবে ডার্বি নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কারণও রয়েছে কারিকের। ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম ম্যাচই ছিল সিটির বিরুদ্ধে। আর গুয়ার্দিওলার শেষ ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ২-০ জিতেছিল ইউনাইটেড। সেই স্মৃতিই রবিবারের আগে কারিকের দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
অন্য দিকে, মারেস্কার কাছে এই ম্যাচ নিজেকে প্রমাণ করার প্রথম বড় মঞ্চ। সিটির নতুন কোচের শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের মতো। লিগে একশো ভাগ জয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও জয়—তার উপর আর্লিং হালান্ডের দুরন্ত ফর্ম। শেষ তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার। তাঁকে আটকানোই ইউনাইটেড রক্ষণের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গুয়ার্দিওলা নেই। সিটির সামনে নতুন কোচ। ইউনাইটেডও কারিকের হাতে নতুন ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, ম্যানচেস্টার ডার্বিতে অতীতের হিসাব নয়, বর্তমানের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। রবিবারের ম্যাচ তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়—ম্যানচেস্টারে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি হওয়ারও পরীক্ষা।




