অবসর নেওয়ার কথা আগামী অক্টোবর মাসের শেষে। কিন্তু তার দেড় মাস আগেই অপসারণ করা হলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলকে। আগামী ৬ মাসের জন্য সেই দায়িত্বে ন্যস্ত করা হলো ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক দেবজিৎ দত্তের উপর। একইসঙ্গে ফিনান্স অফিসার পদে এখানে নিয়োগ করা হয়েছে ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই নিয়োগ এবং অপসারণ করেছেন রাজ্যপাল তথা আচার্য আরএন রবি। কিন্তু কেমন এমনটা হলো? হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোন কারণ রয়েছে? এই সব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ক্যাম্পাস জুড়ে।
কিছুদিন আগে এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে এবিভিপি’র তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। যা রাজ্য-রাজনীতিকে সরগরম করে তুলেছিল। সেই রেশ যে পুরোপুরি কেটে গিয়েছে এমন নয়। তার মধ্যেই এই অপসারণের ঘটনা চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বুধবার একটি মিছিল আছে। যেখানে উপস্থিত থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মিছিল ঘোষিত কর্মসূচি। তার আগে এমন নিয়োগ এবং অপসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে সকলের মধ্যে। কদিন ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছিল নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগের প্রস্তুতি। স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং ফিনান্স অফিসার নিয়োগ নিয়ে গত শুক্রবার কর্মসমিতির বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল তাতে ওই বিশ্ববিদ্যালয় তকমা পেয়েছিল ‘দেশবিরোধী’দের আখড়া বলে। ওই অশান্তির সময় শাসকদল ঘনিষ্ঠ অধ্যাপকদের নিশানায় ছিলেন রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন অনেকেই। এবার কদিনের মধ্যেই অপসারিত হলেন সেলিম বক্স মণ্ডল। আচার্য আর এন রবির পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে এই বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়। সেখানে বদলির কারণও উল্লেখ করা হয় বলে সূত্রের খবর। পরে উচ্চশিক্ষা দপ্তর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অপসারণের নির্দেশ পাঠিয়ে দেয়। সেখানেই নতুন রেজিস্ট্রার এবং ফিনান্স অফিসার নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। আপাতত ৬ মাস রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব সামলাবেন দেবজিৎ দত্ত। এই অপসারণ একেবারেই নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপাল আর এন রবির ইচ্ছাতেই আইন মেনে সিদ্ধান্ত বলেই প্রশাসন সূত্রে খবর।
তাছাড়া ওই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থায়ী আধিকারিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ কমিটিতে কর্মসমিতির প্রতিনিধি হিসাবে দু’জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। আপাতত ৬ মাসের জন্য দায়িত্ব সামলাবেন ইতিহাসের শিক্ষক দেবজিৎ দত্ত এবং কলা বিভাগের সচিব ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।




