বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর ক্যাম্পাসের একাধিক দেওয়াল থেকে রাজনৈতিক স্লোগান লিখন এবং গ্রাফিটি সাদা রঙের প্রলেপ দিয়ে ঢাকা হয়েছিল। কিন্তু তারপর আবার ওই সব দেওয়ালে স্লোগান এবং কার্ল মার্কসের বাণী ফিরিয়ে আনেন বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। আগের স্লোগান বা গ্রাফিটি ছিল দেশবিরোধী বলে অভিযোগ। কিন্তু কার্ল মার্কসের বাণী তো তা নয়। তাহলে কার্ল মার্কসের বাণীতে রাতের অন্ধকারে প্রলেপ দিল কে? উঠছে প্রশ্ন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকে দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার অভিযোগ আনলেন পড়ুয়াদের একাংশ।
বাম সংগঠনের সদস্যরা কার্ল মার্কসের উক্তিকে বাণী হিসাবেই দেখেন। তা মুছে ফেললে গায়ে তো লাগবেই। সেখানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালের গায়ে সাদা রঙের প্রলেপে ঝাপসা করে দেওয়া হলো কার্ল মার্কসের উক্তি। মুছে দেওয়া স্লোগান রাতের অন্ধকারে মোছা হয়েছে বলে অভিযোগ। দেওয়াল মুছে তারপর ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছে এখানে আগত মানুষজন। বুধবার এমনই অভিযোগ তুলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ। পড়ুয়াদের মধ্যে একজন জানান, মাঝরাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁদের কাছে খবর আসে ৪ নম্বর গেট দিয়ে কলকাতা পুলিশ এবং পুরসভার কিছু কর্মী বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে সাদা রঙ করতেই তাদের সেখানে নিয়ে আসা হয়েছিল।
এদিন পড়ুয়ারা দেখতে পান, কার্ল মার্কসের বিখ্যাত উক্তি এবং অন্যান্য স্লোগানে সাদা রঙের প্রলেপ দিয়ে ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে। সাদা রঙের প্রলেপ কারা দিল এবং কার নির্দেশে মাঝরাতে দেওয়াল সাফ অভিযান করল সেটা পড়ুয়ারা এখন জানতে চান। আর সেটা নিয়ে ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে রেভেলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্টের (আরএসএফ) যাদবপুর ইউনিটের সেক্রেটারি ইন্দ্রানুজ রায়ের অভিযোগ, ‘রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আমার কাছে খবর আসে, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার লোক পরিচয় দিয়ে যাদবপুর ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর গেট দিয়ে কয়েকজন ঢুকছে। তারাই জানিয়েছিল, পুরসভার লোক সেখানে এসে দেওয়াল লিখন হোয়াইট ওয়াশ করেছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিতে এসেছে।’
তাছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে কার্ল মার্কসের উক্তি লেখা ছিল, ‘আমাদের সময় যখন আসবে তখন আমরা বৈপ্লবিক শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করব না।’ সেসব মুছে সাদা করে দেওয়া হয়েছে। এই স্লোগান লিখেছিল, সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। কিন্তু আবার কেউ বা কারা সেসব মুছে দিল। যা নিয়ে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।




