অন্ধ্রপ্রদেশের পোলাভরম জেলায় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ অভিযান চলছে। আর তার মাঝেই এল এক মর্মান্তিক ঘটনা। ক্লোরোকুইন খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ বছরের এক জনজাতির শিশুর (Andra girls dies)। এই ঘটনায় শিশু-সহ কমপক্ষে ৫২ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
পোলাভরম জেলার গোলাগুপ্পা গ্রামে কয়েকজন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। মঙ্গলবার কমপক্ষে ৬ জনের ম্যালেরিয়া পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর স্বাস্থ্য দপ্তরে নজরদারি শিবিরের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: হাসিনাকে কি প্রত্যাবর্তন করা হবে? এ নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্য দপ্তরের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ নিয়ম অনুযায়ী গ্রামবাসীদের ক্লোরোকুইন ট্যাবলেট দেওয়া হয়। ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গোলাগুপ্পার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মাদিবী যমুনা (Andra girls dies) অসুস্থ হয়ে পড়ে। জানা যায়, আচমকাই তার রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
পোলাভরমের জেলা কালেক্টর কে. দীনেশ কুমার জানিয়েছেন, শিশুটিকে প্রথমে নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে তেলাঙ্গানার ভদ্রাচলম এরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে শেষরক্ষা করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন (Andra girls dies)।
ঘটনার পর গোলাগুপ্পা এবং আশপাশের এলাকার আরও বহু মানুষ অসুস্য হতে পড়ে। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পেটে জ্বালা, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা যায় (Andra girls dies)। প্রাথমিক ভাবে রিপোর্ট, মোট ৫৪ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন রিপোর্টে হাসপাতালে ভর্তি ও পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীর সংখ্যা নিয়ে কিছু পার্থক্য থাকলেও সরকারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, অধিকাংশ শিশুই অসুস্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১১ সদস্যের উদ্ধারকারী দল ও ৫.৫ টন ওষুধ নিয়ে ভারত থেকে নেপালে গেল বিমান
সূত্রের খবর, হাসপাতালে ৪৭ জন শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক ভর্তি রয়েছেন। বিশেষ চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে ১৭ জন গ্রামবাসীর চিকিৎসা চলছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি অন্য রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা আশঙ্কামুক্ত।
ক্লোরোকুইন ট্যাবলেটের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, প্রাথমিক পরীক্ষায় ওষুধের গুণমান সন্তোষজনক পাওয়া গিয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গোলাগুপ্পা গ্রামে বিতরণ করা নির্দিষ্ট ব্যাচের ক্লোরোকুইন ট্যাবলেট ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বিশাখাপত্তনমের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মৃত শিশুটির আগে থেকে কোনও বংশগত বা হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যা থাকতে পারে। ক্লোরোকুইন হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিকিৎসকদের একটি অংশের মত। তবে শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়ার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত ক্লিনিক্যাল ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
জেলা কালেক্টর জানিয়েছেন, নির্ধারিত প্রোটোকল ও সঠিক মাত্রা মেনেই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্তের পরেই জানা যাবে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি আলোচনা করেন। অসুস্থদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল এলাকায় পাঠিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে গুজব বা অযথা আতঙ্ক ছড়াতে বারণ করা হয়েছে।
দেখুন:




