ফুটবল নিয়ে কেরলের উন্মাদনার কথা কি নতুন করে বলতে হবে? বাংলার ফুটবলপ্রেমকে টক্কর দিতে পারে তারা। কেরলের কত যে ফুটবলার বাংলায় এসে খেলে গিয়েছেন, তার ঠিকঠিকানা নেই। আর বিশ্বকাপের সময় বাংলার মতো ফুটবল-আবেগের বন্যায় ভেসে যায় সেই রাজ্য।
কিন্তু সেই ফুটবল-পাগল রাজ্যে হঠাৎ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বড় বোন এলমা আভেইরোকে দেখা গেল কেন? কেনই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী?
দু’দিনের সফরে কেরলে এসেছেন এলমা। এ রাজ্যে অতিথি তিনি। এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। রোনাল্ডোর বড় ভক্ত সতীশন দেখা করে এলেন এলমার সঙ্গে। এলমার কাছে পৌঁছে দিলেন কেরলের ফুটবলপ্রেমীদের ভালবাসা ও রোনাল্ডোর প্রতি তাঁদের উন্মাদনার কথা। সতীশন এলমাকে বলেন, ‘কেরলে আপনার ভাইয়ের অসংখ্য ভক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে আমিও এক জন’।
পরে সমাজমাধ্যমে সতীশন লেখেন, ‘কেরলে সফরের সময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বোন এলমা আভেইরোর সঙ্গে উষ্ণ আলাপচারিতা হল। ফুটবল এবং ক্রিশ্চিয়ানোকে ঘিরে মালয়ালিদের সীমাহীন আবেগ ও ভালবাসার কথা তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। তিনি অত্যন্ত সৌজন্যের সঙ্গে কেরলের ফুটবলপ্রেমীদের শুভেচ্ছা এবং ভালবাসার কথা তাঁর ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন’।
কেরলে এসে শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশেও গিয়েছেন এলমা। রোনাল্ডোর প্রতি কেরলের মানুষের যে প্রবল ভালবাসা, তা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতায় রীতিমতো আপ্লুত পর্তুগিজ তারকার দিদি।
Had a warm interaction with @Cristiano Ronaldo’s sister, Elma Aveiro, during her visit to Keralam.
Shared with her the boundless passion and love Malayalis have for football and for Cristiano. She graciously promised to convey the warm wishes and affection of Keralam’s football… pic.twitter.com/h39BOrQKix
— V D Satheesan (@vdsatheesan) September 2, 2026
ইনস্টাগ্রামে নিজের সফরের ছবি দিয়ে এলমা লিখেছেন, ‘ভারতে এমন এক অভিজ্ঞতা হল, যা আমি কোনও দিন ভুলব না। কী অসাধারণ আতিথেয়তা! এখানকার মানুষ কতটা স্বাগত জানাতে পারেন, কতটা বন্ধুত্বপূর্ণ! ঈশ্বর আমাকে যা দিয়েছেন এবং যা দেখিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ’।
এলমা শুধু রোনাল্ডোর বোনই নন, তিনি সিআর সেভেন-এর ব্র্যান্ড ডিরেক্টরও। ফলে কেরলের এই সফর ঘিরে তাঁর উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর সঙ্গে দেখা করে রোনাল্ডোর প্রতি তাঁদের ভালবাসার কথা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের আল-নাসরের হয়ে খেলা ৪১ বছরের রোনাল্ডো এখন পেশাদার ফুটবলে ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছেন। তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৯৭৮। ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ বার পর্তুগালের জার্সিতে দেখা গিয়েছে রোনাল্ডোকে। শেষ ষোলোয় তাঁর দল বিদায় নেয়। সেই বিশ্বকাপই জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনাল্ডো।
তবে ফুটবল থেকে এখনই পুরোপুরি সরে যাওয়ার কোনও তাড়া নেই তাঁর। রোনাল্ডো বলেছিলেন, ‘ফুটবলকে আমি যা দেওয়ার, সবই দিয়েছি। এত বছর ধরে ফুটবল খেলা আমার কাছে আবেগের বিষয়। কোনও প্রয়োজনের জন্য আমি খেলিনি— জীবনে আমি ভালই আছি। বিষয়টা আসলে আবেগের। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আমার ভাল লাগে, আমি ফুটবল খেলতে ভালবাসি’।
আর সেই রোনাল্ডোর বোন এবার কেরল সফরে এসে বুঝে নিলেন, পর্তুগিজ মহাতারকার জনপ্রিয়তা ভারতের এই ফুটবলোন্মাদ রাজ্যে কতটা। কেরলেও যে তাঁর জন্য রয়েছে গভীর আবেগ, তা এ বার নিশ্চয়ই দিদির কাছ থেকেও জানতে পারবেন রোনাল্ডো। তাই তিনিও কি এর পরে কেরলের পথে পা বাড়াবেন? অপেক্ষায় থাকবে কেরল।




