• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 9 September, 2026

চ্যাম্পিয়নের মুকুট হাতছাড়া আলকারাজের, ইউএস ওপেন সেমিফাইনালে শেলটন, শেষ চারে পেগুলাও

প্রথম সেটে নাভারো ৬-৩ জিতে এগিয়ে যান। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে ম্যাচের ছবিটা বদলাতে শুরু করে। পেগুলা নিজের খেলায় নিয়ন্ত্রণ ফেরান, দীর্ঘ র‌্যালিতে ধৈর্য দেখান এবং ৬-৪ জিতে ম্যাচ সমতায় নিয়ে আসেন।

চ্যাম্পিয়নের মুকুট হাতছাড়া আলকারাজের, ইউএস ওপেন সেমিফাইনালে শেলটন, শেষ চারে পেগুলাও

Photo: X

রাত পেরিয়ে ভোর। ঘড়িতে তখন সাড়ে ৩টে। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে তখনও থামেনি উত্তেজনা। চার ঘণ্টা ২৮ মিনিটের মহারণের শেষ হল চমক দিয়ে। গত বারের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন বেন শেলটন। আমেরিকার অষ্টম বাছাই জিতলেন ৬-৭ (৫), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭)-এ।

ম্যাচটি শেষ হয় স্থানীয় সময় ভোর ৩টে ৩৩ মিনিটে। ইউএস ওপেনের ইতিহাসে এত দেরিতে কোনও ম্যাচ শেষ হয়নি। অর্থাৎ, শুধু আলকারাজের বিদায় নয়, শেলটন-আলকারাজের এই কোয়ার্টার ফাইনাল জায়গা করে নিল নিউ ইয়র্কের গ্র্যান্ড স্ল্যামের ইতিহাসেও।

ভারতীয় সময়ে বুধবারের এই ম্যাচে প্রথম সেটে দু’জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৭-৫ জিতে সেট জিতে নেন স্পেনের তারকা। মনে হচ্ছিল, চোট সারিয়ে পাঁচ মাস পরে কোর্টে ফিরে এসেও খেতাব ধরে রাখার দিকেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।

কিন্তু শেলটন তখনও নিজের সেরাটা দেওয়া শুরু করেননি। দ্বিতীয় সেট থেকেই বদলে যায় ছবিটা। আরও এগিয়ে এসে রিটার্ন করতে শুরু করেন আমেরিকান তারকা। ভয়ঙ্কর গতির ফোরহ্যান্ডে একের পর এক উইনার মেরে আলকারাজকে চাপে ফেলে দেন। দ্বিতীয় সেট ৬-১ জিতে সমতা ফেরানোর পরে তৃতীয় সেটও ৬-৩ জিতে ম্যাচে এগিয়ে যান শেলটন।

চতুর্থ সেটে অবশ্য পুরনো আলকারাজকে দেখা যায়। বেসলাইন থেকে নিখুঁত শট, গতি এবং আগ্রাসনে শেলটনকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে ৬-১ সেট জিতে ম্যাচ পঞ্চম সেটে নিয়ে যান তিনি।

শেষ সেটে আর কেউ কাউকে ব্রেক করতে দেননি। একটিও সার্ভিস ব্রেক হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার টাইব্রেকারে। সেখানেই স্নায়ুর লড়াই। শেষ পর্যন্ত ১০-৭ জিতে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন শেলটন। আর থমকে যায় আলকারাজের খেতাব রক্ষার স্বপ্ন।

পাঁচ মাসের চোটের বিরতির পরে নিউ ইয়র্কে ফিরেছিলেন আলকারাজ। সেই দীর্ঘ বিরতির প্রভাব তাঁর পারফরম্যান্সে দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছু সহজ শট মিস করেন তিনি। অন্য দিকে, শেলটনের সার্ভিস এবং আগ্রাসী টেনিস গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁকে এগিয়ে দেয়।

তবে আলকারাজ শেষ পর্যন্ত লড়াই ছাড়েননি। শারীরিক অস্বস্তির মধ্যেও পঞ্চম সেটে ম্যাচকে সুপার টাইব্রেকারে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য স্নায়ুর লড়াইয়ে জেতেন শেলটন। তাঁর কেরিয়ারে আলকারাজের বিরুদ্ধে প্রথম জিতলেন। একই সঙ্গে কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে দ্বিতীয় বার সেমিফাইনালে উঠলেন তিনি।

ম্যাচের পরে শেলটন কৃতিত্ব দেন দর্শকদের। তাঁর কথায়, ‘আমার কাছে সব সময়ই গ্যালারির মানুষগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমার কোচ, আমার দল, পরিবার, বন্ধুরা তো ছিলেনই। তার সঙ্গে নিউ ইয়র্কের মানুষ রাত ৩টে পর্যন্ত থেকে আমেরিকার নামে চিৎকার করেছেন। ওঁরাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, এই জয় এনে দিয়েছেন। এ অবিশ্বাস্য। আমি সব সময় বলি, বিশ্বের সেরা খেলার শহর নিউ ইয়র্ক। আর আমার কাছে বিশ্বের সেরা স্টেডিয়ামও এটাই।’

এ বার সেমিফাইনালে আরও এক আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর সামনে ফ্রান্সেস তিয়াফো। তিনিও এ দিন অবিশ্বাস্য ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল জেতেন। অর্থাৎ ইউএস ওপেনের শেষ চারে একেবারে ঘরের লড়াই—শেলটন বনাম তিয়াফো। ২০০৩-এ অ্যান্ডি রডিকের পর কোনও মার্কিন পুরুষ খেলোয়াড়ের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের অপেক্ষাও নতুন করে শুরু হল।

নাভারোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে সাবালেঙ্কার মুখোমুখি পেগুলা

শুরুটা তাঁর পক্ষে ছিল না। প্রথম সেটে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন জেসিকা পেগুলা। দুই মার্কিন মহিলা তারকার লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন তৃতীয় বাছাই। এমা নাভারোকে ৩-৬, ৬-৪, ৬-৩ হারিয়ে টানা তৃতীয় বার ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন পেগুলা।

আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে দুই আমেরিকানের লড়াই শুরু থেকেই ছিল টানটান। প্রথম সেটে নাভারো ৬-৩ জিতে এগিয়ে যান। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে ম্যাচের ছবিটা বদলাতে শুরু করে। পেগুলা নিজের খেলায় নিয়ন্ত্রণ ফেরান, দীর্ঘ র‌্যালিতে ধৈর্য দেখান এবং ৬-৪ জিতে ম্যাচ সমতায় নিয়ে আসেন।

তৃতীয় সেটেও লড়াই কমেনি। দু’জনের সার্ভিসই বার বার ভাঙে। মোট ন’টি সার্ভিস ব্রেক হয়েছে ম্যাচে। শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বেশি স্থির থাকেন পেগুলা। ৬-৩ জিতে ম্যাচ বার করে নেন তিনি। ম্যাচটি শেষ করতে তাঁর সময় লাগে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট।

জয়ের পরে পেগুলার মুখে স্বস্তি, আবার নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খানিকটা হতাশাও। বলেন, ‘সত্যিই খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। প্রচণ্ড শারীরিক লড়াই হয়েছে, আবহাওয়াও ছিল ভীষণ আর্দ্র। আজ আমার সার্ভিস একেবারেই সেরা জায়গায় ছিল না। তার উপর নিজের মনের সঙ্গেও অনেক লড়াই করতে হয়েছে।’

পেগুলার সামনে এ বার আরও বড় পরীক্ষা। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ বিশ্বের এক নম্বর আরিনা সাবালেঙ্কা। এই ম্যাচে ইতিহাস কিন্তু পেগুলার বিরুদ্ধে। ২০২৪ ইউএস ওপেনের ফাইনালে সাবালেঙ্কার কাছে হেরেছিলেন তিনি। গত বছরও নিউ ইয়র্কের সেমিফাইনালে সাবালেঙ্কাই তাঁকে থামিয়েছিলেন। অর্থাৎ, ইউএস ওপেনে সাবালেঙ্কার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আরও একটি সুযোগ পেগুলার সামনে।