প্রযুক্তিগত সমস্যার জের। এর কারণে মঙ্গলবার একাধিক বিমান বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ল। এয়ার ইন্ডিয়ার মুম্বাই-লন্ডনগামী বিমান ২৯০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু বিমানটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিমানটি বাতিল করা হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৩১ (AI 131) বিমানটি মুম্বাই থেকে লন্ডনের হিথরোর দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু হিথরো বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা যায়। এর ফলে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই বিমানটি জুরিখে অবতরণ করে। সেখানে অবতরণের পর যাত্রীদের প্রথমে বিমানের ভিতরেই অপেক্ষা করতে বলা হয়।
জানা গিয়েছে, হিথরোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমানটি ফের লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিতে পারে বলে সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ওই বিমানটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই মুম্বাই-লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করা ওই বিমানের শত শত যাত্রী দুশ্চিন্তায় পড়েন।
এদিকে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মঙ্গলবার হিথরো বিমানবন্দর আগত সমস্ত বিমান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হিথরো থেকে যে সমস্ত বিমান টেকঅফ করবে সেই পরিষেবা ফের শুরু করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমান সংক্রান্ত আপডেট জানার পরামর্শ দিয়েছে।
#WATCH | Passengers of Mumbai-London Air India flight AI131 stranded at Zurich airport after the flight was diverted due to a technical snag in the UK’s air traffic control system. A technical issue in Britain’s air traffic control system has resulted in widespread disruption in… pic.twitter.com/Eu76ax9gch
— ANI (@ANI) September 9, 2026
শুধু হিথরো নয়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সমস্যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরেও। বিভিন্ন জায়গায় বিমানের সময়সীমা পিছোনোর পাশাপাশি বাতিলও করা হয়। বিমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইট র্যাডার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলিতে ১ হাজারেরও বেশি বিমান বাতিল করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ন্যাটস (NATS)-এর একটি ট্রাফিক কন্ট্রোল কেন্দ্রে প্রযুক্তিগত ক্রুটির পর যুক্তরাজ্যের বিমান পরিষেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্কিংহামের বিমান চলালচলের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বদল ঘটেছে। পরে যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল পরিষেবা প্রদানকারী ন্যাটস জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। তবে বাতিল ও দেরি করে ছাড়া বিপুল সংখ্যক ফ্লাইটের কারণে পুরো বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছে।
ℹ️ Technical issue
Work is continuing to assist airlines and airports recover from today’s disruption. This has been a very complex recovery and has created difficulties for the whole aviation network, from which it will take time to recover. (1/2) https://t.co/Me6GAY385V— NATS (@NATS) September 8, 2026
আরও পড়ুন: সপ্তাহের মাঝে কমবে বৃষ্টির দাপট! উত্তর-দক্ষিণে কবে কাটবে দুর্যোগের মেঘ?
ন্যাটস জানিয়েছে, তারা বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে বিমান পরিষেবাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে এই জটিল পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে পুরো বিমান পরিষেবা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা গিয়েছে।




