দিল্লি, পাটনা, মুম্বইয়ের পরে এবার কলকাতা। নিট পেপার লিকের ঘটনা নিয়ে আজ কলকাতায় পথে নামল ছাত্র-যুবা থেকে শুরু করে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও। তবে সকলের আওয়াজ যেন আজ কল্লোলিনী তিলোত্তমার বুকে এক হয়ে গেল। ছাত্র-যুবাদের গলার স্বরে সুর মেলালেন সকলে।
আজ শুক্রবার প্রাথমিকভাবে কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্রদলগুলো। সেখানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ককরোচ জনতা পার্টির কলকাতা শাখার। শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছিল ককরোচ জনতা পার্টির কলকাতা শাখা। কিন্তু তারপরেও বাম দলগুলির প্রতিনিধিরা আজকের এই প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই এই প্রতিবাদ মিছিলের জেরে রীতিমতো অবরুদ্ধ হয়ে যায় ধর্মতলা চত্বর। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, বোতল ছোড়া শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তারপরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। শিয়ালদহ চত্বরও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ডোরিনা ক্রসিং চত্বরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের তরফে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। যদিও আজ দুপুর থেকেই কলকাতার রাজপথে ছাত্রদের মিছিলে ক্রমেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছিল। তারপরেই পরিস্থিতি আঁচ করে সেখানে প্রবেশ করে পুলিশ ও র্যাফ। প্রাথমিকভাবে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশের সেই চেষ্টা প্রথমে সফল হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। আজ কলকাতার বুকে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল বামেদের আটটি ছাত্র সংগঠন। সঙ্গে ছিল কংগ্রেস ও তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনও।
রাজনৈতিক দল ছাড়াও পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে শহরের বুকে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল শহরের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। যদিও ইতিমধ্যেই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার জন্য শিক্ষাসচিবকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
পড়ুয়াদের দাবি, শুধুই নিট পরীক্ষা নয়, বারবার সর্বভারতীয় একাধিক পরীক্ষায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তারই মধ্যে এই আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশ অকথ্য অত্যাচার করেছে। তারপরেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলনের ঢেউ। যদিও আজ ধর্মতলা চত্বরে পড়ুয়াদের এই আন্দোলন হাইজ্যাক করার অভিযোগও সামনে এসেছে। কারণ, একাধিক ছাত্রছাত্রী জানিয়েছে, তারা এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে করতে চেয়েছিল। আর সেই মতোই জমায়েত করেছিল। আন্দোলনে জাতীয় পতাকা উল্টো করে ধরে থাকার ছবিও সামনে এসেছে। কিন্তু এই মিছিল থেকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট, বোতল ছোড়া হয়। এমনকি আক্রমণের হাত থেকে বাদ যাননি সাংবাদিকেরাও। আর সেই কারণেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের প্রয়োগ করতে হয়েছিল। তাতে চোট পান আন্দোলনরত একাধিক পড়ুয়ারাও।

চলতি বছরে নিট পরীক্ষায় দুর্নীতির জেরে একাধিক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছিল। আর তারপরেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে প্রতিবাদ-অনশন শুরু করেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ও বাম ছাত্র সংগঠন আইসার সদস্যরা। সামনে ছিলেন নেহা বোরা, ঐশী ঘোষ-সহ একাধিক ছাত্রনেতা। কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্রদের এই আন্দোলন দমাতে সেখানে দিল্লি পুলিশের কর্মীরা অকথ্য লাঠিচার্জ শুরু করেন। যার জেরে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী আহত হন। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই ছাত্র আন্দোলনের ক্ষোভ।




