ভারতীয় ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর থেকে দেশকে আরও ক্রিকেটার দেওয়ার লক্ষ্যে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল মুম্বই ক্রিকেট সংস্থা (MCA)। তৃণমূল স্তরের ক্রিকেটের উন্নয়নে আগামী ১০ বছরে ৫০০ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড তৈরি করবে তারা। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শুক্রবারের বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ফান্ডের সুবিধা পাবেন মুম্বইয়ের ময়দানের ক্লাব, স্কুল এবং কলেজগুলি।
MCA সভাপতি অজিঙ্ক নায়েক জানিয়ে দিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এই তহবিলে ১০০ কোটি টাকা রয়েছে। আগামী ১০ বছর ধরে প্রতি বছর আরও ৪০ কোটি টাকা করে যোগ করা হবে। লক্ষ্য, শেষ পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করা। সেই মূলধন খরচ না করে স্থায়ী আমানতে রেখে তার সুদের টাকা তৃণমূল স্তরের ক্রিকেটের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।
নায়েকের কথায়, ‘তৃণমূল স্তরের ক্রিকেটের জন্য আমরা ৫০০ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত বার্ষিক সভায় ১০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছিল। এ বার সেটাই বাড়িয়ে ৫০০ কোটি করা হয়েছে। ময়দানের ক্লাব, স্কুল ক্লাব এবং কলেজ ক্লাব—আমাদের তৃণমূল স্তরের ক্রিকেটারদের জন্যই এই টাকা রাখা থাকবে’।
সুদের টাকায় কিট, সরঞ্জাম, মাঠের পরিকাঠামো
কী ভাবে ব্যবহার হবে এই বিশাল তহবিল? নায়েকের ব্যাখ্যা, এটি মূলত একটি ‘এন্ডাওমেন্ট ফান্ড’। অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকা স্থায়ী আমানতে রাখা হবে। সেখান থেকে যে সুদ আসবে, তা সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলির মধ্যে বিতরণ করা হবে।
MCA সভাপতির কথায়, ‘৫০০ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা হবে এবং সেই টাকা থেকে পাওয়া সুদ বিতরণ করা হবে। কিট, পরিকাঠামো—এ ধরনের কাজে সেই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। কোনও ক্লাব চাইলে লজিস্টিক্সে খরচ করতে পারে, আবার কেউ ক্রিকেটের সরঞ্জাম কিনতে পারে। অর্থাৎ ব্যয়ের বিভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে’।
অর্থাৎ শুধু নামেই তহবিল নয়, প্রতি বছর তার সুদের মাধ্যমে মুম্বইয়ের গ্রাসরুট ক্রিকেটে নিয়মিত অর্থ ঢালার ব্যবস্থা করছে MCA। লক্ষ্য, ছোট ক্লাবগুলির আর্থিক চাপ কমানো এবং ভবিষ্যতের প্রতিভাদের জন্য আরও ভাল পরিকাঠামো তৈরি করা।
সামনেই বাংলার ক্রিকেট সংস্থা CAB-র বার্ষিক সাধারণ সভা। বাংলাতেও তৃণমূল স্তরে ক্রিকেটার তৈরির জন্য বিশেষ প্রকল্প ‘ভিশন ২০২৮’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা। মুম্বইয়ের ক্রিকেট প্রশাসনের এই বেনজির সিদ্ধান্তের পর কি বাংলার ক্রিকেটার গড়ে তোলার এমনই কোনো পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করবে? বঙ্গ ক্রিকেটে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। এক প্রাক্তন রঞ্জি ক্রিকেটার মনে করেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটকে চিরকালই নানা ভাবে পথ দেখিয়েছে মুম্বই। সেই পথ অনুসরণও করেছে বাংলা। এ বারও সেরকম হলে অবাক হব না। মুম্বইয়ের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাতেই হবে। সিএবি-ও এমনই কিছু করুক, যা সারা দেশের সাধুবাদ পাবে। তা না করে কর্মকর্তারা একে অপরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু করেছে’।
সংস্থার AGM-এ মুম্বই ক্রিকেটের তিন প্রজন্মের তিন তারকাকেও সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের তিনটি নির্দিষ্ট লাউঞ্জের নাম রাখা হবে সচিন তেন্ডুলকর, অজিঙ্ক রাহানে এবং প্রয়াত মাধব মন্ত্রীর নামে।
এর পাশাপাশি ওয়াংখেড়ে চত্বরে দিলীপ বেঙ্গসরকারের মূর্তি বসানোর কাজও এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে MCA। জাতীয় ক্রীড়ানীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল AGM-এ। সেই প্রসঙ্গে নায়েকের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ‘এই বিষয়ে BCCI যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই মেনে চলব’।




