তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে? সেই প্রশ্নেই শনিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মুখোমুখি হল দুই শিবির। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি তাঁকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। কল্যাণের অভিযোগ, ‘ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে সম্পত্তি মনে করে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বেচে দিয়েছেন। বিজেপির দালাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
নির্বাচন কমিশনের শুনানি প্রসঙ্গে কল্যাণ জানান, আপাতত একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ আসতে পারে। তাঁর কথায়, ‘একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। সেটা দেওয়ার পর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সেটা নেওয়া হবে। আজ আমাদের কাছে নতুন কোনও নথি চাওয়া হয়নি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকেও কোনও নথি আসেনি। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় বক্তব্য রেখেছি।’
কমিশন সূত্রে কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, আপাতত জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দিতে পারে কমিশন। সে ক্ষেত্রে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই শিবিরকেই পৃথক অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দেওয়া হতে পারে।
তবে প্রতীকের দাবির পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণেও সরব হয়েছে দুই পক্ষ। কল্যাণের দাবি, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জোড়াফুল এঁকেছিলেন এবং সেই নকশা থেকেই দলের প্রতীক তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা এখন বিদ্রোহ করেছেন, কয়েক মাস আগে মমতার আঁকা ওই প্রতীকেই নির্বাচন জিতে এসেছেন। তাই তাঁদের গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল।”
অন্যদিকে, কমিশনে নিজেদের বক্তব্য রাখার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও পরিবারভিত্তিক দল নয়, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়। তাঁর কথায়, “এই দল তৃণমূল স্তরের কর্মীদের দল। ‘মমতা যা বলবেন, তাই সই’—এটা চলবে না।”
ঋতব্রত আরও বলেন, স্বৈরাচারী মর্জির বদলে সাংবিধানিক তথ্য ও নিয়মের ভিত্তিতেই দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। তাঁর কটাক্ষ, সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যের অবস্থান ঠিক করার মতো খামখেয়ালি রাজনীতি বাংলায় আর চলবে না।
ফলে এখন নজর কমিশনের পরবর্তী নির্দেশের দিকে। প্রশ্ন একটাই—জোড়াফুল কি কোনও এক শিবিরের হাতে থাকবে, নাকি আপাতত প্রতীকই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হবে? কারণ সময়ও দ্রুত ফুরোচ্ছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগেই কমিশন কোনও অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।




