ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। এক দিকে ৪১ বছরের কিংবদন্তির অধ্যায় শেষ হল, অন্য দিকে মাত্র ১৮ বছরের লামিনে ইয়ামালের অধ্যায় শুরু। প্রজন্মের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হল স্পেনের। মিকেল মেরিনোর অন্তিম মুহূর্তের গোলে পর্তুগালকে ১-০ হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। আর ম্যাচ শেষে তরুণ ইয়ামালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে।
ইতিমধ্যেই ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা হয়ে উঠেছেন। অনেকের মতে, ভবিষ্যতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির উত্তরসূরিদের তালিকায় থাকতে পারেন তিনি। সেই তরুণ ফুটবলারের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ স্পেন কোচ।ম্যাচের পর এক সংবাদ সংস্থাকে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আজ লামিনে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ খেলেছে। ও দুর্দান্ত খেলেছে কি না, সেটা বড় কথা নয়। আমার কাছে এটা এমন একটি ম্যাচ, যা ওকে সবচেয়ে বেশি পরিণত হতে সাহায্য করবে।’
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন ইয়ামাল। সেই কারণে শুরুতে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। তবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে স্পেনের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেই গোল করেছিলেন তিনি। পর্তুগালের বিরুদ্ধেও আক্রমণভাগে ছিলেন যথেষ্ট সক্রিয়। তিনটি শট নেন, যার মধ্যে দু’টি ছিল লক্ষ্যে। সারা ম্যাচ জুড়েই স্পেনের আক্রমণের ধার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
তরুণ ফুটবলারের আত্মত্যাগেরও প্রশংসা করেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘ও দলের জন্য পরিশ্রম করেছে, দলের রক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বল পায়ে পেলেই প্রতিপক্ষের মনে সংশয় আর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ও প্রতিপক্ষে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই বিশ্বকাপে আমাদের এখন লামিনেকে খুবই দরকার, যাতে ও আরও উন্নতি করতে পারে এবং এ রকম পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে উপহার দিতে পারে।’
মঙ্গলবার (ভারতীয় সময়ে) সংযুক্ত সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে স্পেন। প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা মেলেনি। স্পেনের হয়ে সবচেয়ে ভালো সুযোগ নষ্ট করেন মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল। দানি ওলমোর দুর্দান্ত পাসে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় বল পেলেও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে, আলেক্স বায়েনার বাঁকানো শট অসাধারণ দক্ষতায় পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা।
পর্তুগালের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও একাধিকবার আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে তাদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছনো সুযোগটি আসে নুনো মেন্দেসের শট থেকে। তাঁর ডিফ্লেক্টেড শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই অনেক বেশি সতর্ক ফুটবল খেলতে শুরু করে। তবে অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামা দুই ফুটবলারের যুগলবন্দিতে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। ফেরান তোরেসের বাড়ানো বল থেকে মিকেল মেরিনো জোরালো ও নিখুঁত নিচু শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম। তারা এ দিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১-এ হারিয়ে শেষ আটে ওঠে। পরের প্রতিপক্ষ নিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘এই পর্যায়ে যে প্রতিপক্ষেরই মুখোমুখি হোন না কেন, তারা নিজেদের যোগ্যতাতেই এখানে পৌঁছেছে। তাই পরের প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, তারা আমাদের এ পর্যন্ত যাদের বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছে, তাদের থেকেও আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে।’




