• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 6 July, 2026

ম্যাচের পরেই মন জিতে নিলেন হ্যারি কেন! শেষ আটে উঠে কী এমন বললেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক?

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ নরওয়ে। শেষ ষোলোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে এরলিং হালান্ডের দল। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সামনে সারিতে এসে গিয়েছেন হালান্ড।

ম্যাচের পরেই মন জিতে নিলেন হ্যারি কেন! শেষ আটে উঠে কী এমন বললেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক?

Photo: ANI

মাঠে তিনি গোল করেন, দলকে জেতান। কিন্তু ম্যাচের পর সাক্ষাৎকারে যা বললেন, তাতেই আরও একবার সমর্থকদের মন জিতে নিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২-এ হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। অথচ ম্যাচের বড় একটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও জয় ছিনিয়ে নেয় ‘থ্রি লায়ন্স’। আর সেই লড়াকু জয়ের পর কেনের সহজ-সরল মন্তব্যই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান কেন। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখায় চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো দুই গোল শোধ করলেও সমতা ফেরাতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে কেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মাঠে এত চাপের মধ্যেও তিনি কী ভাবে নিজেকে শান্ত রাখেন। ইংল্যান্ড অধিনায়কের কথায়, “আমার পরিবারই সব সময় সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ করে মা। ম্যাচ চলাকালীন ভীষণ উদ্বিগ্ন থাকেন। তাই খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মা-কে স্কোরও জানাই না। বরং ম্যাচ জেতার পরেই কথা বলি পরিবারের সঙ্গে”। ফুটবলের বাইরেও তাঁর এই মানবিক দিকই সমর্থকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

জয়ের পর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারি কেন বলেন, “আমার গলাটা একেবারে বসে গিয়েছে। ম্যাচটা ছিল পাগল করে দেওয়ার মতো। আমাদের প্রচুর লড়াই করতে হয়েছে। কোনও না কোনও উপায় বের করতেই হতো। এতক্ষণ শুধু গান গেয়েছি, এখন ঠিক করে কথাই বলতে পারছি না। ম্যাচের গুরুত্ব, দলের পরিস্থিতি, সবকিছুই যেন আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। তবু আমরা জয়ের রাস্তা খুঁজে বের করেছি।”

কিছুক্ষণ পর ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর গলা আরও ভাঙা শোনায়। হেসে কেন বলেন, “কথাই বলতে পারছি না। আমি একেবারে বাকরুদ্ধ।”

হ্যারি কেন স্বীকার করেন, এই লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে নিজেদের সামর্থ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত যেতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কেন বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমিই আগে বলে পৌঁছেছিলাম। এমন একটা দিন ছিল, যেদিন অনেক সিদ্ধান্তই আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাতে কোনও প্রভাব পড়েনি। তাই আমি খুশি।”

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তির অনুভূতি বদলে যায় উৎসবে। ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের কাছে এগিয়ে যান। বিখ্যাত সেই স্টেডিয়ামে তখন সবাই একসঙ্গে গলা মিলিয়ে গাইছিলেন ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ এবং ‘থ্রি লায়ন্স’। মুহূর্তে উৎসবের আবহ আরও জমে ওঠে।

কেন যখন মিক্সড জ়োনে পৌঁছন, তখন সেই সেলিব্রশনের রেশ পাওয়া যায় তাঁর গলায়। এতটাই চিৎকার আর গান গেয়েছিলেন যে, তাঁর গলা প্রায় বসে যায়।
তার আগে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জয় নিয়ে কেন জানান, “নকআউট পর্বে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন আয়োজক দেশের দল, তখন দর্শকদের সমর্থনও বড় ভূমিকা নেয়। তবে ইংল্যান্ড কঠিন পরিস্থিতিতে যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তাতেই আমি সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট”।

ইংল্যান্ড অধিনায়কের মতে, “তবে আমরা এখনও নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারিনি। কিন্তু বড় দলগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল, সেরা ছন্দে না থেকেও জয়ের রাস্তা বের করে নেওয়া। আমার বিশ্বাস, এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে”।
ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল বলেন, “আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিতে হয়েছে। ম্যাচটা ভীষণ কঠিন ছিল। যখনই মনে হয়েছে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ফেলেছি, তখনই নতুন কোনও ধাক্কা এসেছে। কিন্তু এটাই প্রকৃত মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, এই দল কখনও হাল ছাড়ে না, কখনও নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারায় না।”

সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ নরওয়ে। শেষ ষোলোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে এরলিং হালান্ডের দল। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সামনে সারিতে এসে গিয়েছেন হালান্ড।

হ্যারি কেনও জানেন, নরওয়ের বিরুদ্ধে এক মুহূর্তের অসতর্কতাও বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জয়ের উচ্ছ্বাস থাকলেও ইংল্যান্ড শিবির এখন পুরোপুরি মন দিচ্ছে শেষ আটের মহারণে। বিশ্বকাপে খেতব জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে হালান্ডদের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষায় পাস করতে হবে থ্রি লায়ন্সকে।