
পূর্বস্থলী ২ ব্লকের নতুনগ্রামে গেলেই দেখতে পাওয়া যাবে সব ঘরেই কাঠের পুতুল তৈরির ব্যস্ততা। এক একটা পরিবারে ছোট-বড় সকলেই প্রায় এই পুতুল তৈরিতে দক্ষ। একটা সময় গাছের ডালি কেটে এই অভিনব ভাবনার পুতুল তৈরি শুরু হয়েছিল ওই গ্রামে। পরবর্তী সময়ে যন্ত্র দিয়ে কাঠ চেড়াই করে পুতুল বানানো শুরু হয় যা আজও চলছে। ব্যান্ডেল- কাটোয়া রেলপথের পাটুলি স্টেশন থেকে কিছুটা গেলেই যাওয়া যাবে নতুনগ্রাম। যে গ্রাম ‘পুতুলের দেশ’ বা ‘পুতুলের গ্রাম’ নামে পরিচিত।
এখানকার শিল্পীদের হাতে তৈরি পেঁচা, বর – কনে, জগন্নাথ-বলরাম- সুভদ্রা, গৌড় নিতাই, রাধা- কৃষ্ণ খুবই জনপ্রিয়। ১৯৬৬ সালে কাঠ দিয়ে দশমাথার রাবণ তৈরি করে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন এখানকার এক শিল্পী শম্ভুনাথ ভাস্কর। আজও ওই পরিবার একই পেশায় যুক্ত। এরকম বহু নামি শিল্পী কারিগররা বছরের পর বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই শিল্পে যুক্ত। যে শিল্প আজ দেশের বহু রাজ্যে স্থান করে নিয়েছে।
বিভিন্ন বাণিজ্যিক এক্সপো থেকে শুরু গ্রামীণ মেলা সব জায়গায় কাঠের পুতুল বিক্রি হয়ে আসছে। বর্তমানে অনলাইনে বরাত পেয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা। ফলে দেশে বিদেশে চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। এমনকি ইদানীং থিমের মন্ডপ সজ্জার জন্য এখানকার শিল্পীরা ডাক পাচ্ছেন। কিন্তু এত কিছুর মাঝে জিআই তকমা কারিগরদের দাবি বরাবর ছিল।
কারিগরদের সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে জিআই তকমা দেওয়া হলো কাঠের পুতুল শিল্পকে। শিল্পীরা বলেছেন, এই তকমা পাবার পর এই শিল্প কর্মের বাজার আরও বাড়বে। কি ধরনের লোগো হবে তাও ঠিক করে ফেলেছেন স্থানীয় শিল্পীরা। পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, জিআই তকমা পাওয়ায় নতুনগ্রাম – এর কাঠের পুতুল আরও জনপ্রিয়তা পাবে। পরিকাঠামো নিয়ে কোনও সমস্যা থাকলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন।




