• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

‘উনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে আমরা বাধ্য’, কড়া বার্তা রূপার

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ট্রোল করা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কড়া বার্তাও দেন

‘উনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে আমরা বাধ্য’, কড়া বার্তা রূপার

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই নয়া ট্রেন্ড চালু হয়েছে ‘ডিম থেরাপি’। তার উপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নানা কুকথা বলে আক্রমণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেতা-কর্মী-প্রাক্তন মন্ত্রী-কাউন্সিলরদের দেখলেই ডিম ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। এই গোটা বিষয়টি যে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না সেটা নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী এসব নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। পালটে যাচ্ছে প্রতিবাদের ভাষা। আর তাই প্রতিবাদ করতে, ধিক্কার জানাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কুণাল ঘোষ, স্বরূপ বিশ্বাস, সব্যসাচী দত্ত-সহ একাধিক নেতাদের ডিম থেরাপি দেওয়া হয়। এই সংস্কৃতিকে মোটেও ভাল চোখে দেখছেন না সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।

এদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। তাতে বিজেপি নেতারাও জড়িয়ে পড়ছেন। যেটা এই রাজ্যের সংস্কৃতি নয় বলে মনে করেন সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক। এই বিষয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ডিম ছোঁড়া আমার কাছে সুস্থ সমাজের লক্ষণ বলে মনে হচ্ছে না। ওটা আমার একেবারেই ভাল লাগছে না। এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমরা নিজেদেরকে বড্ড নীচে নামিয়ে ফেলছি। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ এতকাল রাজনীতি নির্ভর ছিলেন। আজ তোলাবাজি করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই কিছু একটা করে তো হল্লা করতে হবে।’

অন্যদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ট্রোল করা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কড়া বার্তাও দেন। রূপার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘উনি তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর দল ভেঙে গিয়েছে কি না গিয়েছে, সেগুলি আলাদা বিষয়। আদর্শ ছিল না তাই এটা হওয়ার ছিল। প্রথম বছরের পর থেকে উনি দলকে সামলে রাখতে পারেননি৷ নির্বাচনে জেতার জন্য এমন কাজ করেছেন, যার ফলে দলে অনেক বেনো জল ঢুকে গিয়ে সবটা শেষ করে দিল। উনি দলকে কন্ট্রোল করতে পারেননি, এটা অন্য বিষয়। কিন্তু উনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, এটাও সত্যি কথা৷ ওঁর সম্বন্ধে কথা বলতে গেলে একটু সমঝে, বুদ্ধি করে, সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে আমরা বাধ্য। আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসী নিজেকে এমন কোনও জায়গায় নিয়ে যেতে পারি না, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের বাইরের লোক আমাদের খারাপ ভাববে এবং পরিহাস করবে।’

তাছাড়া অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে অভিনয় করার অনুরোধ জানিয়েছেন অনুপম খের। তিনি কি রাজি হয়েছেন? অভিনেত্রীর জবাব, ‘এখন আর ইচ্ছে করে না৷ ১২ বছর ধরে আন্দোলন করেছি, অভিমান হতো, আমার পশ্চিমবঙ্গ কেন এরকম হয়ে যাচ্ছে, এই পশ্চিমবঙ্গের নামটা রক্ষা করার জন্য রাজনাথজির কাছে পাতার পর পাতা নিয়ে গিয়ে জমা দিতাম। অমিত শাহজির কাছে কাগজ জমা দিতাম যাতে পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলানো না হয়। রাজনীতি তো আমি করতেই এসেছি শুধু সমাজে মানুষের জন্য ভাল করবার জন্য। সোনারপুর দক্ষিণের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা এই পরিশ্রম করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে।’