স্বাধীনতা দিবসের সকালে দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা গেল। জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরীর উপর ডিম ছোঁড়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। কলেজে ঢোকা নিয়ে প্রথমে বাধা, তার পরেই উপাসনাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে কলেজ চত্বরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘ডিম থেরাপি’ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন উপাসনা চৌধুরী। কলেজে পুলিশের উপস্থিতিতে বহিরাগতরা ঢুকেছে বলে দাবি তাঁর। বিজেপি এবং এবিভিপির সদস্যরা তাঁর উপর এই হামলা করেছে বলে উপাসনার অভিযোগ।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়ে বিরোধী আসনে বসতেই এই ডিম থেরাপি সংস্কৃতি পশ্চিমবঙ্গের বুকে শুরু হয়েছে। সেটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে শুরু হলেও অন্যান্য নেতা-প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে তৃণমূলের কর্মীদের উপরও এমন হামলা চলছে। যার শেষ সংযোজন ছিলেন নির্মল ঘোষ। তবে এবার ডিম ছুঁড়ে মারা হলো তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরীকে বলে অভিযোগ। শনিবার ১৫ আগস্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন উপাসনা চৌধুরী ও তাঁর দলের কর্মীরা। উপাসনা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেত্রী হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কলেজে ঢোকার সময় তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া নিয়ে আপত্তি ওঠে বলে অভিযোগ।
তারপর তখন কলেজের কোনও পরিচয়পত্র তাঁদের কাছে না থাকায় ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসাররা তাঁদের সামনে ভিড় করতে নিষেধ করেন। তা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা দেখা দেয়। কে কলেজের পড়ুয়া বা কে কর্মী এবং কে বহিরাগত সেটা নিয়ে শুরু হয় চাপানউতোর। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোঁড়া শুরু হয় বলে অভিযোগ। একের পর এক ডিম এসে উপাসনার মাথা ও শরীরে লাগে। হঠাৎ এই ঘটনায় কলেজ চত্বরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরে সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন উপাসনা। তাঁর দাবি, কলেজের ভিতরে বহিরাগতরা উপস্থিত হয়ে হামলা করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে উপাসনা ফেসবুক লাইফে এসে তীব্র প্রতিবাদের সঙ্গে অভিযোগ করেন, ‘কলেজের ভিতর বহিরাগতরা আছে। পুলিশ তাদের কিছু বলেনি। তাদের পরিচয়পত্রও দেখা হয়নি! কিন্তু জাতীয় পতাকা তোলার জন্য কলেজে গেলে তাঁদের বহিরাগত বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে! বিজেপি এবং এবিভিপির পক্ষ থেকে ডিম ছোঁড়া হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের মদত দিয়েছে।’ যদিও বিজেপি, এবিভিপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।




