ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসন এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ধ্বংসস্তূপের তলায় এখনও অনেকে আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা (BNPB)-র প্রধান সুহারিয়ান্তো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও ১১ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি পড়েছে ফ্লোরেস দ্বীপ এবং পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায়। মাউমেরে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান ফাতুর রহমান জানান, সিক্কা, পশ্চিম মাংগারাই এবং পূর্ব মাংগারাই, এই তিনটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তিনটি জেলা থেকে অন্তত ২০টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে মাংগারাইয়ের রেওক গ্রামে ভূমিধসে চাপা পড়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ৬ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
BUILDINGS SWAY VIOLENTLY and CRUMBLE as 7.7 MONSTER QUAKE ROCKS INDONESIA https://t.co/qMl0QaNyzT pic.twitter.com/fvePye9AJo
— RT (@RT_com) August 14, 2026
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় সুনামি হওয়ার মতো কিছু তাদের চোখে ধরা পড়েনি। ভূমিকম্পের জেরে পাহাড়ি এলাকা থেকে কাদা ও মাটি নেমে আসায় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। এখনও ২ জন মাটির নীচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
পুলিশের পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রধান রুদি দারমোকো জানান, ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ও অন্যান্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিভিন্ন শহর ও গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ফলে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তার হিসেব পেতে উদ্ধারকারীদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
INDONESIA ROCKED by 7.7 MEGA QUAKE as BUILDING COLLAPSES
POWERFUL AFTERSHOCKS RATTLE REGION
TSUNAMI WARNING ISSUED https://t.co/77KNtlToHG pic.twitter.com/FK6pbAkAKo
— RT (@RT_com) August 14, 2026
ভূমিকম্পের ফলে এন্দে জেলায় একাধিক ভূমিধসের কারণে ট্রান্স-ফ্লোরেস হাইওয়ের একটি অংশও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৪৩৫ মাইল দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ফ্লোরেস দ্বীপের লাবুয়ান বাজো থেকে লারান্তুকা পর্যন্ত বিস্তৃত। দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার আধিকারিক আব্দুল মুহারি ফ্লোরেসের উত্তর ও দক্ষিণ উপকূল এবং আশেপাশের দ্বীপগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রয়োজনে দ্রুত উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, কম্পনের মাত্রা ৭.৭, জারি সুনামি সতর্কতা
শনিবার ভোরে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপ ও তার সংলগ্ন এলাকা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয়। কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। পরে একাধিকবার আফটারশকও হয়।




