• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 18 August, 2026

হজে গিয়ে ভিক্ষা নয়, আইন মানুন: সৌদিতে পাকিস্তানিদের কড়া বার্তা দূতাবাসের

হজ ও উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বা বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ নিয়ে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান।

হজে গিয়ে ভিক্ষা নয়, আইন মানুন: সৌদিতে পাকিস্তানিদের কড়া বার্তা দূতাবাসের

PIC- AI

হজ ও উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বা বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ নিয়ে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। এবার সেই প্রবণতা ঠেকাতে দেশের নাগরিকদের কড়া সতর্কবার্তা দিল রিয়াধে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস। মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলির আশপাশে ভিক্ষা কিংবা অনুমতি ছাড়া অর্থ সংগ্রহের ঘটনায় সৌদি প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বলে জানিয়ে পাকিস্তানি তীর্থযাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে।

দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, সৌদি আইন এবং ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে প্রত্যেক পাকিস্তানি নাগরিককে। ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহ কিংবা ভিসার নির্ধারিত শর্তের বাইরে কোনও কাজে যুক্ত হলে গ্রেপ্তার, আটক, কারাদণ্ড এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে। এমনকী ভবিষ্যতে সৌদি আরবে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নাগরিকদের সচেতন করতে সমাজমাধ্যমে একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি দূতাবাস। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি পবিত্র স্থান সংলগ্ন এলাকায় ভিক্ষা করছেন। পরে সৌদি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে নিয়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ভিডিওটির মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহের পরিণতি সম্পর্কে তীর্থযাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে।

শুধু ভিক্ষাবৃত্তিই নয়, অনুমতি ছাড়া স্থানীয় পরিষেবা দেওয়া বা নেওয়া এবং বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহের মতো কাজ থেকেও নাগরিকদের দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদিতে থেকে যাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ভিসায় অনুমোদিত নয় এমন কোনও কাজে যুক্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।

গত কয়েক বছরে সৌদি প্রশাসনের তরফে পাকিস্তানি নাগরিকদের একাংশের বিরুদ্ধে উমরাহ ভিসার সুযোগ নিয়ে সৌদিতে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি এবং অন্যান্য বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। মক্কা ও মদিনার বাইরে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ে একাধিকবার সতর্কও করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ফলে এবার হজযাত্রীদের আচরণ নিয়ে আগেভাগেই কড়া অবস্থান নিল ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানি দূতাবাসের বার্তা, পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলিতে গিয়ে সৌদি আইন ভঙ্গ করলে শুধু ব্যক্তিগত বিপদ নয়, দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই হজ ও উমরাহ পালনের সময় ধর্মীয় আচরণের পাশাপাশি স্থানীয় আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলার উপরই জোর দেওয়া হয়েছে।