• facebook
  • twitter
Monday, 12 January, 2026

ভোটে লড়লে জিতত আওয়ামী লীগই, সেজন্যই নিষিদ্ধ ঘোষণা, দাবি হাসিনার

পাশাপাশি জামাত-এনসিপি জোট এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের ফিরে আসার বিষয়টি নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকেই চান। তাই ভোটে লড়লে আওয়ামী লীগই জিতে যেত। সেজন্যেই তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি জামাত-এনসিপি জোট এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের ফিরে আসার বিষয়টি নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।  হাসিনার দাবি, সূত্র মারফত তিনি জেনেছেন, বিএনপি কর্মীরা ১২ ফেব্রুয়ারি, সাধারণ নির্বাচনে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে ভয় দেখাচ্ছে, তাদের উপর বলপ্রয়োগ করছে। তাঁর কথায়, ‘এটাই কি গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন?’


Advertisement

জুলাই আন্দোলনের পর হাসিনা দেশ ছাড়লে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হবে। এই নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ভোটে লড়ছে না আওয়ামী লীগ। এক সংবাদ মাধ্যমে এই নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, ‘ইউনূসের সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তার বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ৯ বার ভোট দিয়ে জয়ী করেছে।
অর্থাৎ, একথা জোরের সঙ্গে বলা যায়, বাংলাদেশের মানুষকে যদি নির্বিঘ্নে ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়া হয়, তখন তারা আমাদেরই ভোট দেবে, নির্বাচিত করবে। অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার সবকিছু জেনেশুনেই ব্যালট বাক্সের লড়াইয়ে আমাদের সম্মুখীন হতে চাইছে না। নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গায়ের ঝাল মিটিয়েছে তারা।’
 
হাসিনা আরও বলেন,  আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ বা অংশগ্রহণমূলক হতে পারে না। তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনও সরকারই গণতান্ত্রিক বৈধতা দাবি করতে পারে না। তাঁর যুক্তি, ‘বাংলাদেশের জনগণ যদি আমাদের ভোট না দেয়, তাহলে সেই ভোটের নিরর্থক। ঐতিহাসিকভাবে একথা সত্য। ৩০ শতাংশের বেশি ভোটার এবার নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে। তাহলে এই নির্বাচনে জিতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তার স্থায়িত্ব বেশিদিনের নয়। খুব শীঘ্রই তা গভীর সংকটের সম্মুখীন হবে।’
হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে যে ছাত্রনেতারা জুলাই আন্দোলন করেছিলেন, তাঁদেরই একাংশ পরে এনসিপি গঠন করেন। এই দল এবারের ভোটে জামাতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়বে। হাসিনার মতে, ‘বাংলাদেশের যে তরুণ প্রজন্ম সমৃদ্ধি এবং সুযোগের আশায় এনসিপিতে যোগ দিয়েছিল, তারা এখন প্রতারিত। কারণ এনসিপি প্রতিশ্রুতি রাখেনি।’  হাসিনা বলেন, ‘গোঁড়া ইসলামি মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনসিপি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে তছনছ করে দিতে চায়।’

আওয়ামী লীগ লড়াইয়ের ময়দানে না থাকায় এবারের ভোটে জামাত এবং এনসিপির জোট একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দেশে ফিরেছেন তারেক। খালেদার প্রয়াণের বিএনপির দায়িত্বভারও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়েও মুখ খুলেছেন হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের পুনর্নবীকরণ বা সংস্কারের সূচক নয়। বরং এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক জলবায়ুকে আরও পিছনের দিকে ঠেলে দেবে।’

Advertisement

হাসিনার আমলেই একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় করে দেশ ছেড়ে লন্ডনে গিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস করা শুরু করেন তারেক। হাসিনা দেশান্তরী হওয়ার পর তিনিও ফিরেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যত মামলা দায়ের হয়েছিল হাসিনার আমলে, তা থেকেও মুক্ত হয়েছেন তারেক। হাসিনা বলেন,  ‘আমি বিশ্বাস করি না, বাংলাদেশ এমন ব্যক্তির কাঁধে ভর করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, যাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার চরমপন্থী শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধে এবং হিংসাকে প্রশ্রয় দেয়।’

 

 

Advertisement