• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 1 August, 2026

‘আশা করি সমালোচকরা হিংসা রিপু নিয়ন্ত্রণে রাখবেন’, ইসকনকে দায়িত্ব দিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আর ইসকনের মেগা কিচেন থেকে ইলেকট্রিক গাড়িতে রান্না করা খাবার স্কুলে পৌঁছে যাবে। মিড-ডে মিলের গুণমান এবং নিরাপত্তা

‘আশা করি সমালোচকরা হিংসা রিপু নিয়ন্ত্রণে রাখবেন’, ইসকনকে দায়িত্ব দিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-IANS

প্রত্যেক সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দিতে মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় নতুন মডেল চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার তারাতলায় ইসকনের মেগা কিচেনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে ৩১৯টি সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকন অন্নামিত্র ফাউন্ডেশনকে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার প্রায় ৩০ হাজার পড়ুয়ার জন্য প্রত্যেকদিন রান্না করা পুষ্টিকর নিরামিষ খাবার নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এদিন নিজের হাতে খুন্তি নেড়ে রান্না করে উদ্বোধন করলেন কিচেনের। রান্না হয়ে সেসব গাড়িতে করে পৌঁছে যাবে কলকাতার স্কুলগুলিতে। সবুজ পতাকা নেড়ে সেই গাড়িরও উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। একজন রাঁধুনিরও চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে কলকাতার স্কুলে স্কুলে মিড-ডে মিল পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করল ইসকন। শনিবার তারাতলায় ইসকন পরিচালিত অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে যাঁরা আপত্তি তুলেছিলেন, এই ব্যবস্থায় পড়ুয়ায় ডিম পাবেন না বলে যাঁরা দাবি করেছিলেন, সেই বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর খোঁচা, ‘আশা করি, আপনারা এবার মুখটা বন্ধ রাখবেন। হিংসারিপু দমন করুন। আশা করি সমালোচকরা হিংসা রিপু নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।’

অন্যদিকে কলকাতা পুরসভা এলাকার ৫০০টি সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের ৪৪ হাজার ছাত্রছাত্রীর পাতে সুষম আহার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের সূচনা হলো। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরিষেবার পরিধি বাড়িয়ে শহর কলকাতার আড়াই লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে সম্প্রসারিত করা হবে। পাতে ভাত-পোলাও তো থাকছেই সপ্তাহে দুদিন ডিমও দেওয়া হবে। অপুষ্টির মোকাবিলায় এই প্রকল্প জরুরি ছিল। বিত্তশালীরা সরকারি স্কুলে সন্তানকে পাঠান না। ইসকন সনাতন সংস্কৃতি মেনে খাবার দেবে। এটা নিয়ে সমালোচনা চলছে। গণতন্ত্রে বিরোধী থাকা ভাল। প্রথম থেকে আন্ডা আন্ডা করে মিছিল বের করে ফেললেন। ইসকন সমঝোতা করে না। আমরা ওড়িশাতে টিম পাঠাই। ওখানে একদিন ডিম দেয়। আমরা সপ্তাহে দু’দিন করে ডিম দেব।’

তাছাড়া এদিন দুপুরে ইসকনের অনুষ্ঠানে গিয়ে যোগদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। তার পরে মুখ্যমন্ত্রী ফিতে কেটে উদ্বোধন করেন মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের। রান্নার কাজে হাতও লাগিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘মিড-ডে মিলে খাবারে মেনুতে থাকবে— ভাত অথবা খিচুড়ি অথবা পোলাও। পনির অথবা ছানা। সয়াবিন অথবা মরশুমি সবজি অথবা বাদাম। মিষ্টি অথবা মরশুমি ফল। সনাতনী সংস্কৃতি মেনে ইসকন আহার দেবে। যারা সমালোচনা ছাড়া গত ৫০ বছরে কিছু করেনি, তাদের বলব আপনারা পারলে একদিন স্কুলে যান। ৪৪ হাজার পড়ুয়ার পাতে যে মিড-ডে মিল আমরা পৌঁছে দিয়েছি সেটা একবার চেখে আসবেন। ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়ায় যারা বলছিল, মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের কাজ চলে যাবে। তাদের আশ্বস্ত করে বলছি, কোনও রাঁধুনি বঞ্চিত হবেন না। রান্না করা খাবার সরবরাহ করার কাজে ইসকন তাঁদের যুক্ত করবে। আগস্ট মাস থেকে তাঁদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে। ২০০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩০০০ টাকা।’

আর ইসকনের মেগা কিচেন থেকে ইলেকট্রিক গাড়িতে রান্না করা খাবার স্কুলে পৌঁছে যাবে। মিড-ডে মিলের গুণমান এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খাবার ভরা প্রত্যেকটি কনটেনার সিলড থাকবে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিশুদের ক্ষুধা এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে আসার পর ড্রপআউট হারের ওপর ভিত্তি করেই বাজপেয়ীজি প্রথম সর্বশিক্ষা অভিযানের আওতায় পুষ্টিকর আহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। আগে যেখানে শিক্ষার্থী পিছু সরকারের মাত্র ৩ টাকা বরাদ্দ ছিল সেটা আমরা বাড়িয়ে প্রাথমিকে ৬.৭৮ টাকা থেকে ১০ টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিকেও ১০ টাকার সমতুল করেছি। তবে শুধু সরকারি বরাদ্দে এমন উন্নতমানের আহার সম্ভব নয়। এখানেই দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি এবং দানশীল মানুষদের সহযোগিতা সামনে এসেছে। মোদীজি সবসময় বলেন বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা। তাই আধ্যাত্মিক চেতনার সঙ্গে অন্নদান আমাদের সনাতন ও সামাজিক পরম্পরা।’