• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 15 July, 2026

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার চাপ, আইনি পথেই সিদ্ধান্তের বার্তা ভারতের

এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার চাপ, আইনি পথেই সিদ্ধান্তের বার্তা ভারতের

Sheikh Hasina Photo-SNS

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে নতুন করে জোরালো হয়েছে ঢাকা-দিল্লি আলোচনা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আইনি পথে সবরকমভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, শেখ হাসিনা সরাসরি বাংলাদেশে ফিরলে তাঁকে মুক্তভাবে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করাই সরকারের লক্ষ্য।

একই সুরে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ পাবেন না। বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখামাত্র তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। কারণ আদালতের রায়ে তিনি দণ্ডিত।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ যদি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়, তবে তা ভারতীয় আইন এবং দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই হবে।

২০২৪-এর আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আসেন। এরপর বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪-এর আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেই রায়ের পর থেকেই তাঁকে ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। তবে শেখ হাসিনা বরাবরই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শেখ হাসিনা ভারতে এসেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রশাসনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। তাই তাঁকে সাধারণ পলাতক অভিযুক্ত হিসেবে দেখা যায় না। শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভারতীয় আইন, দুই দেশের চুক্তি এবং কূটনৈতিক বিবেচনার উপর। বর্তমানে এ বিষয়ে দিল্লির অবস্থানে পরিবর্তনের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।