• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 12 July, 2026

‘ওখানে এখনও অবৈধ সরকার চলছে’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে তারেক সরকারকে নিশানা দিলীপের

এই আবহে শেখ হাসিনা আবার ফিরে এলে তাঁর দল আওয়ামি লিগ পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কাও অনেকে করছেন

‘ওখানে এখনও অবৈধ সরকার চলছে’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে তারেক সরকারকে নিশানা দিলীপের

Dilip Ghosh Photo-SNS

ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা। কিন্তু ওপার বাংলায় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে ফাঁসির সাজা। সেটা থাকা অবস্থাতেই নিজের দেশে পা রাখতে চান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এই খবর সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পদ্মাপার থেকে ধেয়ে এসেছে নানা মন্তব্য। জুলাই বিপ্লবের সময় যে গণহত্যা হয়েছিল তার দায়ে ফাঁসিকাঠে ঝুলতেই হবে মুজিবকন্যাকে বলে হুঁশিয়ারি ওপার থেকে এপারে এসে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের শাসকদল এবং বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা এমন মন্তব্যই করে চলেছেন। আর এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান সরকারকে তুলোধনা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এদিকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার চলার বিষয়কে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একজন উপদেষ্টা তথা বিএনপির শীর্ষ নেতা। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতারা শেখ হাসিনার বক্তব্যের নেপথ্যে অন্তর্নিহিত কোনও রহস্য বা ষড়যন্ত্র দেখছেন। এমনকী জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা কড়া ভাষায় বলেছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা হোক। এইসব মন্তব্য এদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি সম্প্রচার করেছে। তাই রবিবার বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষের তোপ, ‘ওখানে এখনও অবৈধ সরকার চলছে।’

অন্যদিকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়। তখন সেখান থেকে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন হাসিনা। এখনও ভারতের ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে’ আছেন তিনি। ওপার থেকে এপারে থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, প্রাণ চলে গেলেও স্বদেশে ফিরবেন তিনবি। আর ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ঢাকায় পা রাখবেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ন পড়ে যায় পদ্মাপারে। কারণ জুলাই আন্দোলন মামলায় গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন হাসিনা। তাঁর ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে আদালত। তাই দেশে পা রাখলেই সেই সাজা কার্যকর হবে বলে সব দলই আওয়াজ তুলেছে।

এই আবহে শেখ হাসিনা আবার ফিরে এলে তাঁর দল আওয়ামি লিগ পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কাও অনেকে করছেন। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরই আওয়ামি লিগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, তাঁর সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী, দলীয় সংসদ সদস্য এবং নীচুস্তরের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপন করে থাকেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ভারত, আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইউরোপের নানা দেশে চলে যায়। দেশে থাকা অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হন। আবার এখন সেখান থেকে হুঁশিয়ারি আসছে। এই বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের নিশানা, ‘বাংলাদেশে যা চলছে সেটা ঠিক হচ্ছে না। ওখানে এখনও অবৈধ সরকার চলছে। শেখ হাসিনা জনগণের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। উনি দেশে ফিরতেই পারেন। তবে গত ২-৩ বছর ধরে বাংলাদেশে যা যা ঘটেছে সেটা একেবারেই ঠিক ছিল না। আমরা চাই, ওখানে নির্বাচিত সরকার ঠিকমতো কাজ করুক। এটা ওই দেশের ব্যাপার। আশা করি ওরা সব সামলে নেবে।’