ইরানের সঙ্গে পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক লেনদেনে সাহায্য করার অভিযোগ এক ভারতীয় দম্পতি (Indian Couple)-সহ চার ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা। তাঁদের পরিচালিত সংস্থার সঙ্গে তুরস্কের একটি সংস্থার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বুধবার মার্কিন রাজস্ব দপ্তর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, চণ্ডীপড়ের বাসিন্দা সুনীলকুমার শর্মা এবং যশপ্রীত প্রীতি শাহিদ নামে ওই দম্পতি (Indian Couple) ইরানের তেল পরিবহণকারী জাহাজগুলিকে বেআইনিভাবে রেজিস্ট্রেশন ও ছাড়পত্র পেতে সাহায্য করতেন। তাঁদের সংস্থা জাহাজগুলির জন্য জাল নথি ও শংসাপত্রের ব্যবস্থা করত বলেও অভিযোগ।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলির উপর আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এই কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। তাঁরা হলেন অশ্বিনীকুমার ধীমান এবং ইশবিন্দর সিং।
ইরানের তেল বিক্রির অর্থ যাতে সামরিক খাতে বা আমেরিকার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়, সেই উদ্দেশে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই অভিযানের আওতায় ইরান থেকে তেল নিয়ে যাওয়া কিংবা ইরানের উদ্দেশে তেল পরিবহণকারী জাহাজগুলির উপর নিষেধ আনা হয়েছে।
পাশাপাশি, তেহরানকে আর্থিকভাবে লাভবান করতে পারে, এমন কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা।
বুধবার মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি বা সংস্থাকে রেয়াত করা হবে না। তাঁর কথায়, ‘হয় আপনি আমাদের পক্ষে, না হলে বিপক্ষে। যাঁরা এখনও ইরানকে সমর্থন করে যাচ্ছেন, তাঁদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।‘
মার্কিন রাজস্ব দপ্তরের দাবি, চণ্ডীগড়ের ওই দম্পতি (Indian Couple) একটি সংস্থা ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জাহাজের রেটিস্ট্রেশন এবং নাবিকদের প্রশিক্ষণের পরিষেবা দেন। বিভিন্ন দেশের পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক জাহাজকে শংসাপত্র দেওয়া হত। ট্রাম্প সরকারের অভিযোগ, এই জাহাজগুলির অনেকগুলিই ইরানের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও পড়ুন: আমেরিকায় প্রথম মুসলিম সেনেটর, আবদুল এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বাস কর্নাটকের দুই শহরে
নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট চার ভারতীয় নাগরিক এবং তাঁদের সংস্থার সঙ্গে কোনও মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না। তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে পারে মার্কিন সরকার (Donald Trump)। এমনকি অন্য দেশের কোনও ব্যক্তি বা সংস্থায় এই সংস্থাগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
এছাড়া, তুরস্কের ‘ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস’ নামে একটি সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে আমেরিকা। ইরানের যে ছ’টি সংস্থার উপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তাদের বিভিন্ন ধরনে পরিষেবা দিয়ে সহযোগিতা করেছিল তুরস্কের এই সংস্থাটি।
দেখুন:




