পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইরান সংঘাত ফের ভয়াবহ আকার ধারণ করল। মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের পর পর দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের পর পাল্টা অভিযান চালাল ইরান। আমেরিকা ইরানের ৫টি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ওমান উপসাগর এবং খার্গ দ্বীপের কাছে ওই জাহাজগুলিকে হামলা চালিয়ে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের তরফে এখনও এই দাবির বিষয়ে কোনও বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সেন্টকমের দাবি, গত দু’দিনে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি দু’বার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করার চেষ্টা করে। দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন জাহাজ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনায় কোনও মার্কিন সেনা আহত হননি বলেও দাবি আমেরিকার। এরপরেই জবাব দিতে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করা হয়।
সেন্টকম জানিয়েছে, পাঁচটি ট্যাঙ্কারের মধ্যে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ এবং এম/টি রিসকো-কে ওমান উপসাগরে এবং এম/টি দেরিয়াকে খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার লক্ষ্য করা হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হামলার আগে জাহাজগুলির নাবিকদের সতর্ক করে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছিল। নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর সেগুলিকে ‘অচল’ করে দেওয়া হয়। এই হামলার পিছনে বড় আর্থিক স্বার্থের অভিযোগও তুলেছে ওয়াশিংটন। গত ৫ সেপ্টেম্বরও তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালানোর দাবি করেছিল সেন্টকম।
মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। আইআরজিসির দাবি, জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে প্রায় ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। জর্ডনের সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করেছে। বাকি দু’টি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই বলে জানিয়েছে আম্মান। তবে ইরানের দাবি, হামলায় মার্কিন ফাইটার জেটের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে কুয়েত ও বাহরিনের বন্দরে থাকা মার্কিন তেলবাহী জাহাজগুলির নাবিকদেরও সতর্ক করেছে আইআরজিসি। ওই জাহাজগুলিকে আমেরিকার ‘সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে সেগুলি ইরানের হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে নতুন করে আবার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীতে।
ইরানের দাবি, হরমুজের প্রবেশপথ থেকে একটি মার্কিন চালকহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল বা ডুবোযান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আইআরজিসি। সেটি মার্কিন সংস্থা অ্যান্ডুরিলের তৈরি ‘ডাইভ-এলডি’ বলে দাবি করেছে তেহরান। দখল করা জলযানের ছবি ও ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে ইরান। তবে এই দাবিকে অন্যভাবে দেখছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বক্তব্য, আঞ্চলিক জলসীমায় নজরদারির সময় একটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন আগেই বিকল হয়ে গিয়েছিল। সেটি পুরনো মডেলের এবং কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল তথ্য বহন করছিল না বলেও দাবি আমেরিকার। ফলে ইরান সত্যিই কোনও সচল মার্কিন সামরিক জলযান দখল করেছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: হিথরোর বদলে মুম্বাই-লন্ডন এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান নামল জুরিখে, পরে হল বাতিল, কী কারণ?
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই নতুন সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথটিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির উপরেও তার প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




