• facebook
  • twitter
Saturday, 21 February, 2026

ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেকের বার্তা, একাত্তর ভোলেনি বাংলাদেশ

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও এদিন শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করলেন তারেক রহমান। শুক্রবার মধ্যরাতে একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। আর  ঠিক তার পরেই পুস্পস্তবক দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক।

গত দেড় বছর ধরে এক অরাজকতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ।  জামাতের ষড়যন্ত্রে বারবার বাংলাদেশে বাঙালি অস্মিতা আক্রান্ত হয়েছে। শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে তারেক বুঝিয়ে দিলেন একাত্তর ভোলেনি বাংলাদেশ। ভোলেনি কীভাবে বাংলা ভাষার প্রতি তীব্র প্রেমই পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিল।

Advertisement

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন। পরে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা তাঁর নেতৃত্বে শহিদদের প্রতি সম্মান জানান। শনিবার দিনভর সর্বস্তরের মানুষ শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। উল্লেখ্য, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও এদিন শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।

Advertisement

বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূচনা ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায়। ১৯৪৮ সালের মার্চে আন্দোলন সীমিত পরিসরে বিস্তার লাভ করে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। সেদিন ১৪৪ ধারা ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়।

শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার-সহ অনেকে। ২২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষও প্রতিবাদে রাজপথে নামে এবং মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গায়েবি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা শহিদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার তা ভেঙে দিলেও আন্দোলন দমেনি। বরং আরও তীব্র আকার ধারন করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর ৭ মে গণপরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি  সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাংলা পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাশ হয়। একই বছরের ৮ মার্চ থেকে তা কার্যকর করা হয়। ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পায় ২০১০ সালে।

Advertisement