• facebook
  • twitter
Wednesday, 18 February, 2026

রূপরেখা ঠিক করল বিএনপি, ১৮০ দিনের নকশা তৈরি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বুধবার বলেন, ওই স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাটি আরও পরিমার্জন করে দ্রুত জনগণের সামনে আনা হবে

বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসে প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনিক রূপরেখা স্পষ্ট করতে চাইছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি। দলের তরফে জানানো হয়েছে, সরকার পরিচালনার জন্য ১৮০ দিনের একটি ‘নকশা’ আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বুধবার বলেন, ওই স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাটি আরও পরিমার্জন করে দ্রুত জনগণের সামনে আনা হবে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হবে, আগামী ছ’মাসে সরকার ঠিক কোন অগ্রাধিকারগুলিতে জোর দেবে।

মঙ্গলবার শপথগ্রহণের পরই বুধবার বিকেলে প্রথম মন্ত্রীসভা বৈঠক ডাকা হয় ঢাকায়। মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন রমজান মাসের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নতুন আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আইন নিজের গতিতেই চলবে; তবে আইনের অপব্যবহার হয়ে থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও সাড়া মেলেনি। এখন তারেক সরকারের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে।

Advertisement

জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, ১৮০ দিনের পরিকল্পনাটি মূলত তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার রূপরেখা দেবে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশল আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান স্বীকার করেছেন, জনগণের প্রত্যাশা ‘পাহাড়প্রমাণ’ এবং সেই প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রীসভা নিরলস কাজ করবে।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—দ্রুত ফল দেখানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। প্রথম ১৮০ দিনই নির্ধারণ করবে, তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক বার্তা কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে জনগণের কাছে।

 

 

 

Advertisement