২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং জনসংযোগ বাড়াতে ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’র ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঙ্গলবার সল্টলেকে দলের রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত সূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং ‘পরিবর্তনের বার্তা’ ছড়িয়ে দেওয়াই এই রথযাত্রার মূল লক্ষ্য।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১ মার্চ এবং ২ মার্চ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৯টি রথযাত্রা শুরু হবে। ১ মার্চ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার এবং দক্ষিণবঙ্গের কৃষ্ণনগর, দক্ষিণ গড়বেতা, রায়দিঘি ও কুলটি থেকে রথযাত্রার সূচনা হবে। পরদিন অর্থাৎ ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসনাবাদ ও আমতা থেকে নতুন পর্যায়ের রথযাত্রা শুরু হবে।
Advertisement
তবে ৩ মার্চ দোল এবং ৪ মার্চ হোলি উৎসবের কারণে ওই দু’দিন রথযাত্রা স্থগিত রাখা হবে। এরপর ৫ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ব্যাপক প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই সময়ের মধ্যে রথযাত্রাগুলি মিলিয়ে ৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করা হবে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ট্যাবলো, পদযাত্রা এবং বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
এই রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্তরের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রথযাত্রার পাশাপাশি কর্মীদের উজ্জীবিত করতে রাজ্যজুড়ে ৬০টি বড় জনসভা এবং প্রায় ৩০০টি ছোট জনসভার আয়োজন করা হবে। এই সমস্ত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বুথ এবং মণ্ডল স্তরে সংগঠনকে সক্রিয় করে তোলাই দলের প্রধান লক্ষ্য।
এই রথযাত্রার সমাপ্তি হবে মার্চ মাসের শেষের দিকে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে একটি বিশাল জনসভার মাধ্যমে। ওই জনসভায় উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও জনসভার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে দল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও একই ধরনের রথযাত্রা কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। তবে সেই নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। দলীয় নেতৃত্বের মতে, বর্তমানে রাজ্যের বহু বুথে সংগঠন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তা কমেছে। সেই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে এই ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদী বিজেপি নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে বড় রাজনৈতিক লড়াই হতে চলেছে। তাই এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Advertisement



