• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 1 July, 2026

যুদ্ধ নয়, জোর বৈশ্বিক সহযোগিতায় ব্রিকসে বার্তা ভারতের

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবিক সংকটকে উপেক্ষা করা যায় না।

যুদ্ধ নয়, জোর বৈশ্বিক সহযোগিতায় ব্রিকসে বার্তা ভারতের

ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আয়োজিত বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল সংকটের সমাধান শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সম্ভব নয়। বরং সংলাপ, কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাই স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে পারে।

জয়শঙ্করের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি। তিনি হরমুজ প্রণালী এবং রেড সি অঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, সামুদ্রিক পথে বাধা বা জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিরাপদ ও অবাধ সামুদ্রিক চলাচল অত্যন্ত জরুরি। ইরান-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

বৈঠকে জাতিসঙ্ঘের সংস্কারের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরে ভারত। জয়শঙ্কর বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই রাষ্ট্রসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে আর দেরি করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি জানিয়ে আসছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবিক সংকটকে উপেক্ষা করা যায় না। ভারত যুদ্ধবিরতি, মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং ‘দুই রাষ্ট্র নীতি’র প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, সুদান, ইয়েমেন ও লিবিয়ার পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে ভারত জানিয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

একতরফা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও পরোক্ষে কড়া বার্তা দেন জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন বা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের বাইরে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করার রাজনীতি উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান বিশ্বের বিভাজিত ভূরাজনীতির মধ্যে ভারত নিজেকে এমন এক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যারা সংঘাত নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থার পক্ষে।

এই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সূত্রের খবর, বৈঠকের ফাঁকে তাঁদের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আবহে এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সরাসরি আমেরিকার নীতির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাপ ও দমননীতির বিরুদ্ধে এখন সম্মিলিত অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। সব মিলিয়ে দিল্লির ব্রিকস বৈঠক ঘিরে ভারত, রাশিয়া ও ইরানের কূটনৈতিক সমীকরণ নতুন করে নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।