রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদানকে কেন্দ্র করে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় চাহিদা বেড়েছে তাঁর প্রতিকৃতির। এর ফলে দীর্ঘদিন পর কাজের ব্যস্ততায় ফিরেছেন পূর্ব বর্ধমানের কালনার খ্যাতনামা দারুশিল্পী জগৎ মণ্ডল।
হুগলির জিরাটে অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ির সংস্কার এবং সেখানে ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই প্রকল্পের পাশাপাশি জিরাট এলাকা থেকেই সাতটি মূর্তি তৈরির বরাত পেয়েছেন জগৎ মণ্ডল। এছাড়া কালনার লিচুতলা-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও তাঁর কাছে একাধিক অর্ডার এসেছে। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি ১২টির বেশি বরাত নিতে পারেননি।
অ্যাকাডেমি অফ ক্রিয়েটিভ আর্টসের প্রাক্তন ছাত্র জগৎ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে দারুশিল্পে কাজ করছেন। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার রাজ্যস্তরে শ্রেষ্ঠ দারুশিল্পীর সম্মান পেয়েছেন তিনি। তাঁর তৈরি শিল্পকর্ম ত্রিপুরা, কেরালা, কর্ণাটক-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্থান পেয়েছে। কলকাতার রুবি মোড়ের কাছে স্থাপিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিটিও তাঁরই সৃষ্টি। তবে তাঁর দাবি, অতীতে এত সংখ্যক বরাত কখনও পাননি।
বর্তমানে মার্বেল ডাস্ট ও বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরি করছেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৬ জুলাইয়ের আগে সমস্ত মূর্তি সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে কাজ চলছে। এই কাজে তাঁর পাশে রয়েছেন স্ত্রী বুল্টি মণ্ডল। তিনিও মূর্তি তৈরির বিভিন্ন কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করছেন। জগৎ মণ্ডল বলেন, সময় খুব কম থাকায় বহু অর্ডার ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।
তাঁর স্ত্রী জানান, রাত জেগেও কাজ করতে হচ্ছে যাতে নির্ধারিত সময়ে সব মূর্তি পৌঁছে দেওয়া যায়। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও শ্রদ্ধা বেড়েছে বলেই মূর্তির চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন কাজের অভাবে সমস্যায় থাকা এই শিল্পী এখন ব্যস্ততার মধ্যেই নতুন আশার আলো দেখছেন। তবে তাঁর আবেদন, শুধু তাঁর নয়, রাজ্যের অন্যান্য দক্ষ শিল্পীদেরও যেন যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় এবং সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে শিল্পচর্চার সুযোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।




