• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 1 August, 2026

মরক্কো থেকে সেউতায় অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়, সীমান্ত পেরোতে গিয়ে মৃত্যু ৫৭ জনের, ঢুকেছেন ৬০ হাজার

স্পেনের স্বরাষ্ট মন্ত্রক জানিয়েছেন, সেউতায় প্রবেশ করা বহু অভিবাসীকে ইতিমধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের ভৌগলিক অখণ্ডতার উপর আঘাত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি মানব পাচারকারী চক্রগুলোকেও এই সংকটের জন্য দায়ী করেন

মরক্কো থেকে সেউতায় অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়, সীমান্ত পেরোতে গিয়ে মৃত্যু ৫৭ জনের, ঢুকেছেন ৬০ হাজার

Image: SNS

সমুদ্রের গর্জনকে ছাপিয়ে উঠেছে হাজার হাজার মানুষের আর্তনাদ। তাঁরা সবাই উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্র সাঁতরে আসা অভিবাসী। গত ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে স্পেনের শহর সেউতায় ঢুকেছে। কমপক্ষে ৬০ হাজার মানুষ সেউতা শহরে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে সমুদ্র পেরোতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেকেরই। সেউতার স্থানীয় প্রেসিডেন্ট হুয়ান জিসাস ডিভাস জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত অনন্ত ৫৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত সেউতা ১৫৮০ সাল থেকে স্পেনের দখলে রয়েছে। প্রায় ৮৫ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট শহরে সীমান্ত অতিক্রম করে মরক্কো থেকে মানুষের প্রবেশ নতুন কিছু নয়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। হাজার হাজার মানুষ জলপথ ও স্থলপথ-উভয় দিক দিয়েই সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় ঢুকতে শুরু করেন। আফ্রিকায় স্পেনের আরেকটি স্বশাসিত অঞ্চল মেলিলাতেও দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরাদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণত বৈধ নথিপত্র না থাকলে অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু এবারের ঢল সেই সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই কার্যত ভেঙে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকেই সমাজমাধ্যমে এই গণ-অনুপ্রেবেশের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, মরক্কোর বিপুল সংখ্যক মানুষ তারাজল সমুদ্র সৈকতের ঢেউ প্রতিরোধক বাঁধ পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করছেন। অনেকে আবার সাঁতরে সমুদ্র পেরিয়েই শহরে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মৃতদের মধ্যে কেউ সমুদ্রে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন, আবার কেউ বিপুল জনসমাগমের চাপে পদপিষ্ট হয়েছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট মন্ত্রক জানিয়েছেন, সেউতায় প্রবেশ করা বহু অভিবাসীকে ইতিমধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের ভৌগলিক অখণ্ডতার উপর আঘাত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি মানব পাচারকারী চক্রগুলোকেও এই সংকটের জন্য দায়ী করেন।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেউতার স্থানীয় প্রশাসন মাদ্রিদের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আবেদন জানিয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষিত ডুবুরি দলও পাঠানো হয়েছে। তবু এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেউতার রাস্তাজুড়ে এখনও অভিবাসীদের দীর্ঘ মিছিল, আর সংকট কাটানোর লড়াই অব্যাহত।