মাদ্রিদের রাস্তায় যেন নেমে এসেছিল লাল-হলুদের সমুদ্র। ১৬ বছর পর আবার ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরেছে স্পেন। আর সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বরণ করতে রাজধানীর রাজপথে নেমে এলেন প্রায় ২০ লক্ষ সমর্থক। খোলা ছাদের বাসে বিশ্বকাপ হাতে শহর পরিক্রমা করলেন লামিন ইয়ামালরা। চারদিকে তখন একটাই স্লোগান— ‘কিংস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০-য় হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। দেশে ফিরেই প্রথমে দলের সদস্যরা দেখা করেন রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে। বিশ্বকাপজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজা বলেন, গোটা দেশ তাদের নিয়ে গর্বিত। প্রধানমন্ত্রীও স্পেনের ফুটবলারদের লড়াই, একতা এবং অসাধারণ ফুটবলের প্রশংসা করেন।
তার পরই শুরু হয় আসল উৎসব। বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে খোলা বাসে চড়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন স্পেনের ফুটবলাররা। বাসের গায়ে লেখা ছিল ‘Kings of the World’ । ট্রফির উপরে জ্বলজ্বল করছিল স্পেনের দুই বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক দুটি তারা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে ফুটবল ছুড়ে দেন খেলোয়াড়েরা। কেউ জাতীয় পতাকা ওড়াচ্ছেন, কেউ আবার ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা জার্সি পরে নাচে-গানে মেতে ওঠেন।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন স্ট্রাইকার বোরহা ইগলেসিয়াস। সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপনের পাশাপাশি তিনি ডিজের ভূমিকাতেও মাতিয়ে তোলেন সমর্থকদের। জনপ্রিয় স্প্যানিশ শিল্পীদের সঙ্গীত আর ফুটবলারদের নাচে-গানে উৎসব আরও রঙিন হয়ে ওঠে।
রাজধানীর সিবেলেস স্কোয়ারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ছিলেন সমর্থকেরা। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই তাঁরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একঝলক দেখার জন্য ভিড় করেন। একে একে মঞ্চে ডাকা হয় প্রত্যেক ফুটবলারকে। শেষমেশ আবারও আকাশের দিকে উঁচিয়ে ধরা হয় বিশ্বকাপ ট্রফি। মুহূর্তেই গর্জে ওঠে সারা মাদ্রিদ।
স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে বলেন, এই দলের কোচ হতে পারা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের মুহূর্তগুলির একটি। দেশের মানুষ যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা তিনি কোনও দিন ভুলবেন না।
এই বিশ্বকাপ জয়ের ফলে স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হল। ২০১০ এর পর আবার বিশ্বসেরা হওয়ার পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলাদের—দুই বিশ্বকাপই এখন স্পেনের দখলে, যা বিশ্ব ফুটবলে বিরল কৃতিত্ব।




