একই দিনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দুই ভিন্ন রায়ে স্বস্তি ও অস্বস্তি— দুই বিপরীত অভিজ্ঞতার মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে ফেডারেল সংস্থার প্রধানদের অপসারণের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়ে তাঁর পক্ষেই রায় দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে লেখিকা ই জিন ক্যারলের দায়ের করা যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত, যা বড় ধাক্কা ট্রাম্পের।
প্রথম মামলায় ডেমোক্র্যাট সদস্য রেবেকা কেলি স্লটারকে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কমিশনার পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আইনি বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আমেরিকার আইনে সাধারণত অসদাচরণ বা অযোগ্যতার মতো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এমন পদ থেকে কাউকে সরানো সম্ভব নয়। তবে ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে না। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এই রায় ফেডারেল রিজার্ভের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
অন্যদিকে, ক্যারলের দায়ের করা দুটি মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগের রায়ই বহাল রাখল আদালত। ২০২২ সালের মামলায় নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নব্বইয়ের দশকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং পরে তাঁকে অপমান করে মন্তব্য করার জেরে মানহানির অভিযোগ ওঠে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় ৫০ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ বহাল থাকে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের মানহানির মামলাতেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বহাল থেকেছে। ফলে সুদ-সহ প্রায় ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাঁকে।
ক্যারলের আইনজীবী রবার্ট কাপলান বলেছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর দাবি, যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলা এড়াতে ট্রাম্পের সব আইনি প্রচেষ্টা শেষ। যদিও ট্রাম্প সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিচার চলাকালীন আদালতে এমন কিছু সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছিল, যা পক্ষপাতদুষ্ট এবং তাঁ বিরুদ্ধে গিয়েছে ।




