মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ক্যারোলিন লেভিট হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প নিজেই এই ঘোষণা করেছেন। আগস্টের শেষে ২৮ বছর বয়সের লেভিট তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে হোয়াইট হাউস ছাড়ছেন না তিনি। প্রেস সচিবের পদ থেকে সরে গেলেও ট্রাম্পের অন্যতম ‘প্রধান পরামর্শদাতা’ হিসেবে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির হয়ে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন তিনি।
মাত্র ২৭ বছর বয়সে হোয়াইট হাউসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন লেভিট। গত দেড় বছর ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং ট্রাম্পের নীতির পক্ষে জোরালো সওয়ালের জন্যও বারবার খবরের শিরোনামে তিনি উঠে এসেছেন।
গত ১ মে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন লেভিট। মেয়ের নাম ভিভিয়ানা। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জুলাইয়ে কাজে ফেরেন তিনি। লেভিট জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন, প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালনের জন্য যে পরিমাণ সময়, শক্তি ও মনোযোগ দরকার তা দিতে গিয়ে দুই ছোট সন্তানের প্রতি যথেষ্ট সময় দিতে পারছেন না। তাই পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে লেভিটের ঘনিষ্ঠদের দাবি, বিষয়টি এতটা সহজ ছিল না। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকাকালীনও ট্রাম্প নিয়মিত তাঁর খোঁজ নিতেন এবং কবে কাজে ফিরবেন তা জানতে চাইতেন। ফলে তাঁর উপর কাজের অত্যন্ত চাপ ছিল বলে দাবি। যদিও অন্য একটি সূত্রের বক্তব্য, সন্তানদের দেখাশোনা, ঘুমের অভাব এবং একই সঙ্গে প্রেস সচিবের দায়িত্ব ঠিকমতো সামলানোই তাঁর জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছিল।
নিজের পদত্যাগের কথা জানিয়ে লেভিট জানান, হোয়াইট হাউসের মঞ্চে প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে ছিল বিশেষ সম্মানের। ট্রাম্পও তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে লেভিটের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হল, যখন ট্রাম্পের জনসমর্থন কমছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।




