রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেল প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকার জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে ভারত ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত কোনও সম্ভাব্য রেলপথ (Russia-India Rail) যদি আফগানিস্তানের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যায়, তাহলে সেই প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রস্তুত আছে।
আরটি ইন্ডিয়াকে আফগানিস্তানেরর অর্থ মন্ত্রকের মুখপাত্র আবদুল রহমান হাবিব জানিয়েছেন, ‘আমরা এই ধরনের প্রকল্পকে সমর্থন করি’। তাঁর দাবি, এই ধরনের রেল যোগাযোগ গড়ে উঠলে আফগানিস্তানে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও স্থায়ী রেলপথ (Russia-India Rail) নির্মাণের কথা বলা হয়নি। সম্প্রতি রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন ভারত মহাসাগরের সঙ্গে রেল যোগাযোগের (Russia-India Rail) সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন। ভারত পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, এমন যে কোনও রুটই গ্রহণযোগ্য বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সম্ভাব্য রুট হিসেবে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের নাম উঠে এসেছে (Russia-India Rail) । সেই পরিস্থিতিতে তালিবানের প্রকাশ্য সমর্থন প্রকল্পটির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে পাকিস্তান। ভারতের জন্য লাভজনক কোনও প্রকল্পে ইসলামাবাদ আদৌ সহযোগিতা করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কেন রেলপথ খুঁজছে রাশিয়া?
রাশিয়ার এই উদ্যোগের পিছনে মূল কারণ হল বাণিজ্য ও কৌশলগত যোগাযোগের জন্য শুধুমাত্র সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীলতা (Russia-India Rail) কমানো। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থলপথে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বাণিজ্যিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে চাইছে রাশিয়া (Russia-India Rail) । তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ভারত মহাসাগর বা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।
অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু একটি রেললাইন তৈরির পরিকল্পনা নয়। রাশিয়া এমন একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজছে, যা সমুদ্রপথের সম্ভাব্য ঝুঁকির প্রভাব কমিয়ে পণ্য পরিবহণে সাহায্য করতে পারে।
ভারতের কাছেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব কম নয়। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও পরিবহণ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহার রাজ্যের
কেন তালিবান এই প্রকল্পকে সমর্থন করছে?
আফগানিস্তান একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। অর্থাৎ সরাসরি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে মধ্য এশিয়া থেকে রাশিয়ার কোনও গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ যদি আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারত বা ভারত মহাসাগরের দিকে যায়, তাহলে আফগানিস্তানের জন্যও তা বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এই রেলপথের মাধ্যমে আফগানিস্তান ট্রানজিট বাণিজ্য, পরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা থেকে আয় করতে পারে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রকের মুখপাত্র আবদুল রহমান হাবিবও এই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই প্রকল্পে আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রেলপথ তৈরি হলে দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তাই তালিবানের কাছে এটি শুধুমাত্র রাশিয়ার কোনও প্রকল্প নয় (Russia-India Rail) । নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ হিসেবেও তারা এই সম্ভাব্য রেলপথকে দেখছে।
সফল হবে কি রাশিয়া-ভারত রেল প্রকল্প?
প্রকল্পটি আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবায়নের পথে একাধিক বাধা রয়েছে। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিপুল পরিমাণ পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ-সবই বড় চ্যালেঞ্জ।
এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাকিস্তানে অবস্থান। প্রস্তাবিত কয়েকটি রুট পাকিস্তানের (Russia-India Rail) ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। ভারতকে সরাসরি সুবিধা দেয় এমন কোনও প্রকল্পে পাকিস্তান সহযোগিতা করবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ফলে তালিবানের সমর্থন প্রকল্পটিকে নতুন গতি দিলেও রাশিয়া-ভারত (Russia-India Rail) সরাসরি রেল যোগাযোগ বাস্তবে তৈরি হতে এখনও বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত বাধা অতিক্রম করতে হবে।
দেখুন: ‘কী পাওয়া গেছে, এখনই উল্লেখ করব না’, NRS কাণ্ডে শারদ্বত




