পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan) এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিদের (Bushra Bibi) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। জেলবন্দি অবস্থায় তাঁরা কেমন আছেন, তা খতিয়ে দেখতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওকে (Marco Rubio) অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, তাঁদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্যও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের তরফে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে ১১ আগস্ট রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের রিপোর্ট ও যোগাযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ইমরান খান (Imran Khan) ও বুশরা বিবির (Bushra Bibi) অবস্থার বিষয়ে সেখানে একাধিক উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে একাকী বন্দিদশা, পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং তাঁদের শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ইমরান খান (Imran Khan) ও বুশরা বিবির (Bushra Bibi) বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘদিনের বন্দিদশা এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে ৮০০ কিমি/ঘণ্টা! পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেনে চিনের বিশ্বরেকর্ড
ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও একাকী বন্দিদশা নিয়ে উদ্বেগ
রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কথা উল্লেখ করে মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ইমরান খানকে (Imran Khan) কখনও কখনও দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত একাকী বন্দি রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এই সময়সীমা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেরর তুলনায় অত্যন্ত বেশি।
ইমরানের খানের (Imran Khan) দৃষ্টিশক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর আইনজীবীর আদালতে দেওয়া একটি আবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, ইমরানের (Imran Khan) ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
এছাড়াও, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বন্দিদশার শুরুতে ইমরান খান (Imran Khan) তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রী বুশরা বিবির বন্দিদশা নিয়েও প্রশ্ন
বুশরা বিবির (Bushra Bibi) কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়েও আলাদাভাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্যাতন-বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আরেকটি যোগাযোগের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, বুশরা বিবিকে (Bushra Bibi) দীর্ঘ সময় ধরে একটি ছোট, বায়ুচলাচলহীন এবং অতিরিক্ত গরম কক্ষে রাখা হয়েছিল।
পরিষ্কার পানীয় জল ও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া নিয়েও তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বুশরা বিবির (Bushra Bibi) ওজন অনেক কমে গিয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংক্রমণ এবং চিকিৎসা না হওয়ার জন্য কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তাঁর দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি নিয়েও রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অবিলম্বে নজর দেওয়া প্রয়োজন: রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিবেদক
ইমরান খান (Imran Khan) ও বুশরা বিবির (Bushra Bibi) পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ ও শাস্তি-বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের উদ্বেগের কথাও মার্কিন আইপ্রণেতারা তাঁদের চিঠিতে তুলে ধরেছেন।
কংগ্রেসেরর চিঠি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিবেদক মনে করেছিলেন যে ইমরান খান ও বুশরা বিবির পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ‘অবিলম্বে নজর দেওয়া প্রয়োজন’।
এবার সেই উদ্বেগগুলি খতিয়ে দেখে ইমরান খান (Imran Khan) ও তাঁর স্ত্রীর (Bushra Bibi) বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আহ্বান
শুধু পরিস্থিতি পর্যালোচনাই নয়, বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার জন্যও ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট যেন ইমরান খান (Imran Khan) ও বুশরা বিবির (Bushra Bibi) পরিস্থিতি নিয়ে উঠা অভিযোগগুলি পর্যালোচনা করে তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতিরর খোঁজখবর নেয়।
একইসঙ্গে তাঁদেরর দীর্ঘদিনের বন্দিদশা এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি সরাসরি পাকিস্তান সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। ইমরান খান (Imran Khan) ও বুশরা বিবির (Bushra Bibi) কারাবাস নিয়ে যাতে সরাসরি পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক চাপ দেয় আমেরিকা-এমনই ইঙ্গিত মিলেছে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ওই চিঠিতে।




