• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশ! রাত ৮টার পর বন্ধ মল-দোকান, অন্ধকারে বিলবোর্ড!সাহায্যের হাত বাড়াবে ভারত?

বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা ও আসন্ন মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়েও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে

জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশ! রাত ৮টার পর বন্ধ মল-দোকান, অন্ধকারে বিলবোর্ড!সাহায্যের হাত বাড়াবে ভারত?

Image: ANI

জ্বালানি সঙ্কট ক্রমশ গভীর হচ্ছে বাংলাদেশে (Tarique Rahman )। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার শপিং মল, বাজার ও দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ সরকার। ১২ আগস্ট সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের শপিং মল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্তই খোলা রাখা যাবে। রাত ৮টার পর আর ব্যবসা চালানো যাবে না। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টার পর সমস্ত বিলবোর্ড বন্ধ করে দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ‘সব ধরনের আলংকারিক বা আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে হবে।’ কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমানোই বাংলাদেশ সরকারের  (Tarique Rahman )মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো, বন্দুক ছেড়ে র‍্যাম্প মাতালেন প্রাক্তন মহিলা নকশালরা

শুধু ঢাকায় নয়, গোটা বাংলাদেশেই বিধিনিষেধ

বাংলাদেশের জ্বালানি সঙ্কটের পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে এই নির্দেশিকা শুধু রাজধানী ঢাকার জন্য নয়, গোটা দেশেরর জন্য কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে (Tarique Rahman ) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা ও আসন্ন মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়েও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার নির্দেশিকায় (Tarique Rahman ) স্পষ্টভাবে বলেছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলা বা আসন্ন মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বাস্তবায়নের জন্য বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি শুধু ঢাকার প্রশাসনের কাছে নয়, বাংলাদেশের সমস্ত সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সমস্ত বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছেও নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ফলে এটি যে দেশজুড়ে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত, তা বিজ্ঞপ্তি থেকে স্পষ্ট।

ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেলের আবেদন

এদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেলল চেয়েছে ঢাকা। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশে চলা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি এবং তার জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটার বিষয়টি উঠে আসে।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মাহমুদ জানান, ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহের জন্য একটি পাইপলাইন রয়েছে এবং সেই পথে আরও ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দেশের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে বর্তমানে চুক্তির বাইরে নতুন উৎসের সন্ধান করছে বাংলাদেশ সরকার।

আরও পড়ুন: রক্ষাকবচ বহাল, ৭৭-এর রবীন্দ্রনাথকে আপাতত গ্রেপ্তার নয়! ‘আর কত দিন মামলা?’ প্রশ্ন হাই কোর্টের

ভারত কি সাহায্য়ের হাত বাড়াবে?

বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-ভারত কি প্রতিবেশী দেশটিকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করে সাহায্য করবে? এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ মাত্র এক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে প্রথম ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন করার পর ভারতকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিল বাংলাদেশ সরকার।

তবে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে ভারতের তরফে কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলিতে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশের সরকার ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে এবং বিষয়টি ভারত সরকার খতিয়ে দেখছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল চাইলেও ভারত এখনও অতিরিক্ত সরবরাহের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এদিকে দেশের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় রাত ৮টার মধ্যে দোকান-মল বন্ধ, সন্ধ্যা ৭টার পর বিলবোর্ডের আলো নিভিয়ে দেওয়া এবং মেলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করার মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েচে বাংলাদেশ সরকার (Tarique Rahman )।

 

দেখুন: