• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 19 September, 2026

ডিসেম্বরের আগে ‘অচল’ করতে হবে তারেক সরকারকে, দিল্লির বৈঠকে বার্তা হাসিনার

হাসিনা আওয়ামী লীগের ৮৩টি জেলা শাখা এবং ১৬০টি নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কাছ থেকে দেশের পরিস্থিতি ও দলের অবস্তার খবর নিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে যেসব তথ্য তিনি পেয়েছেন, তাও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।

ডিসেম্বরের আগে ‘অচল’ করতে হবে তারেক সরকারকে, দিল্লির বৈঠকে বার্তা হাসিনার

Photo: File Photo

ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার কথা আগেই জানিয়েছেন আওয়ামী লিগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এবার তাঁর দেশে ফেরার আগে ধারাবাহিক আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্তের কথা জানাল দল। শুক্রবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, যতই নির্যাতন বা মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হোক, মানুষের পাশে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে দলের নেতা-কর্মীদের। দলীয় সূত্রের দাবি, আন্দোলনের লক্ষ্য হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে অচল করে দেওয়া। রবিবার থেকেই ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচির মাধ্যমে শুরু হচ্ছে সেই আন্দোলন।

শুক্রবার রাতে দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক বসে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে হওয়া ওই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলনেত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একাধিক নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের-সহ অন্য নেতারাও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক অবস্থার বিষয়ে বক্তব্য দেন।

বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদার জুলুম ও মামলা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। সরকার সেসব ঠেকাতে ব্যর্থ।

দলীয় সূত্রের দাবি, ডিসেম্বরের আগে একের পর এক কর্মসূচি নেওয়া হবে। জেলা থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম কর্মসূচি রবিবার ঢাকায় ‘লকডাউন’। বাংলাদেশে রবিবার সরকারি ছুটি নয়। ফলে অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজ চালু থাকে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন স্তব্ধ করার লক্ষ্যেই কর্মসূচি ডাকা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। যুবলীগের তরফে এর আগে কর্মসূচিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। শুক্রবারের বৈঠকে গোটা আওয়ামী লীগ পরিবারকে তা সফল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।

বৈঠকে শেখ হাসিনা আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়েও তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী। তাঁর বক্তব্য, যত বাধাই আসুক, নেতা-কর্মীদের জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে। তিনি দলের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে সংগঠন পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। হাসিনা আওয়ামী লীগের ৮৩টি জেলা শাখা এবং ১৬০টি নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কাছ থেকে দেশের পরিস্থিতি ও দলের অবস্তার খবর নিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে যেসব তথ্য তিনি পেয়েছেন, তাও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগের বৈঠক থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্ধ হয়ে যাওয়াশিল্প চালু করা, কর্মহীন শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শেখ হাসিনা-সহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। দলীয় বিবৃতিতে এসব দাবি ও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৬ মাসে ১ লক্ষ সরকারি চাকরি, বড় ঘোষণা আদিত্যনাথের

তবে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে দলের অন্দরে সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচিতে তার উল্লেখ নাও থাকতে পারে বলেও ওই সূত্রের বক্তব্য। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া দেশে ফিরে নেতা-কর্মীদের উপর হামলার বদলা নেওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।