পাকিস্তান ক্রিকেটের অবস্থা কি সত্যিই এতটাই খারাপ যে কিংবদন্তি ওয়াসিম (Wasim Akram) আক্রমও আর পথ দেখানোর জায়গায় নেই? পরিস্থিতি দেখে অন্তত তেমনই মনে হচ্ছে প্রাক্তন পাক অধিনায়কের (Wasim Akram)। বার বার তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে, দেশের ক্রিকেটকে এই সঙ্কট থেকে বার করে আনতে তিনি কি কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারেন? আক্রমের জবাব— সমস্যাটা এত গভীরে যে, তাঁর একার পক্ষে তা মেরামত করা সম্ভব নয়।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন টেস্টের সিরিজে ইতিমধ্যেই ০-২ পিছিয়ে পাকিস্তান। এজবাস্টনে বুধবার শুরু হচ্ছে সিরিজের শেষ টেস্ট। তার আগেই আক্রম বলে দিলেন, এই ম্যাচেও পাকিস্তান হারলে তিনি (Wasim Akram) অবাক হবেন না। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের কাছে ০-৩ হারের সম্ভাবনা সিরিজ শুরুর আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল।
আক্রম (Wasim Akram) বলেন, ‘সিরিজ শুরুর আগেই জানতাম, ইংল্যান্ডের কাছে আমরা ০-৩ হারব। আমাদের ব্যাটিং সমস্যায়, বোলিং সাধারণ মানেরও নীচে এবং ফিল্ডিং আরও খারাপ। এর জন্য কোনও জটিল হিসাবের প্রয়োজন নেই।’
আরও পড়ুন: প্যারিসের আক্ষেপ ভুলে এ বার এশিয়ান গেমসে দেশকে গর্বিত করতে চান তিলোত্তমা
তবে শুধু ক্রিকেটারদের দায়ী করতে নারাজ পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা পেসার। তাঁর মতে, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। পাকিস্তানি ক্রিকেটে একটি প্রচলিত প্রবাদ টেনে এনে আক্রম বলেন, ‘পাকিস্তানে একটা কথা আছে—এক হাতে তালি বাজে না।’ অর্থাৎ, ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট-প্রশাসন— দুই দিকেই সমস্যা রয়েছে।
আর সেখানেই তাঁর (Wasim Akram) সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। আক্রম জানিয়েছেন, তাঁকে প্রায়ই বলা হয়, ‘আপনি পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য কিছু করতে পারেন না?’ কিন্তু তাঁর পাল্টা যুক্তি, শুধু কয়েক জন তারকা ক্রিকেটারকে নিয়ে কাজ করলেই হবে না। তাঁদের পিছনে যে শক্তিশালী পরিকাঠামো থাকা দরকার, সেটাই এখন নেই।
আক্রমের (Wasim Akram) কথায়, ‘আমাকে সব সময় প্রশ্ন করা হয়, পাকিস্তান ক্রিকেটকে সাহায্য করার জন্য আমি কিছু করতে পারি কি না। কিন্তু সমস্যাগুলো অনেক গভীরে। এঁরাই এখন আমাদের সেরা ক্রিকেটার, এর নীচে আর তেমন কিছু নেই। গোটা ব্যবস্থাটাই ঠিক ভাবে তৈরি হয়নি।’
বিশেষ করে পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ তিনি। আক্রমের মতে, গত কয়েক বছরে সেই ব্যবস্থায় কোনও ধারাবাহিকতা নেই, ধৈর্যও নেই। ফলে প্রতিভা তৈরি করার প্রক্রিয়াটাই ধাক্কা খাচ্ছে।
সমস্যার প্রভাব সমর্থকদের মধ্যেও পড়ছে বলে মনে করেন আক্রম। তাঁর বক্তব্য, ‘দলের হার দেখতে দেখতে সমর্থকেরাও সব কিছু ভেঙে নতুন করে শুরু করতে চান। আমরা এমন বহু বার করেছি। এখন ভেঙে ফেলার মতোও প্রায় কিছু বাকি নেই।’
আরও পড়ুন: এশিয়াডে পাঁচতারা হোটেলে থাকা হবে না ভারতীয় ক্রিকেটনাদের, জানিয়ে দিল বোর্ডই
টসে জিতে ইংল্যান্ডের বোলিং, পাক দলে চার পরিবর্তন
এদিকে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্টে তিনজন ক্রিকেটারের অভিষেক হচ্ছে। দলে চারটি বদলও এনে এই টেস্টে নামছেন বাবর আজম-রা। এ দিন টস জিতে ইংল্যান্ড প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের দলে কোনো পরিবর্তন নেই। কিন্তু পাক দলে চারটি পরিবর্তন হয়েছে। এই টেস্টে বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়াই দুই দল নামছে। কোনও দলেই কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার রাখা হয়নি। অর্থাৎ, মূলত পেসাররা ও ব্যাটাররাই ঝড় তুলবেন বলে মনে হচ্ছে।
টসে হারার পর বাবর বলেন, ‘নতুন ছেলেদের জন্য এই টেস্ট একটা ভাল সুযোগ। বাইরের আলোচনা বা সমালোচনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা শুধু এই ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার দিকেই মন দিচ্ছি। এই মাঠে ভাল পারফর্ম করার জন্য আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। সাদা বলের ক্রিকেটে এখানে আমি ভাল খেলেছি। এখানকার পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিয়েছি।আমরা দলে চারটি পরিবর্তন করেছি। তিন জনের অভিষেক হচ্ছে এবং সইম আয়ুব দলে ফিরেছে।
প্রথম দুই টেস্টে হারের পর সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো হয়েছে। তার ফলে এতগুলি পরিবর্তন করে দল নামাতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। অথচ এই ব্যাপারে, কোচ, অধিনায়ক কারো সঙ্গেই নাকি পরামর্শ করা হয়নি। বুধবার বাবর টস করতে যাওয়ার আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে নাসের হুসেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোচ মাইক হেসন বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্বে আসি, তত দিনে দলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তখন কোনও কোচও দায়িত্বে ছিলেন না। সরফরাজের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। কিন্তু সেই কথোপকথন বেশ কঠিন ছিল’।
তৃতীয় টেস্টের দল নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিভা আছে। আসল বিষয় হল সেই প্রতিভাকে সঠিক ভাবে তৈরি করা। কারও মূল দক্ষতা থাকলেই তো হবে না, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই দক্ষতা কী ভাবে প্রয়োগ করতে হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই জায়গাতেই আমরা পিছিয়ে রয়েছি’।
দেখুন: এশিয়ান ওপেনবিল থেকে পেইন্টেড স্টর্ক, তামিলনাড়ুর জলাভূমিতে পাখিদের ভিড়




