• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 9 June, 2026

এবার টি-টোয়েন্টি ভারতীয় দলের অধিনায়কের দৌড়ে সঞ্জু

অধিনায়কত্বের দৌড়ে শ্রেয়স আইয়ারের নাম থাকলেও, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতের টি-২০ সেট-আপে তাঁর অনুপস্থিতি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় দলে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সঞ্জু স্যামসনের নামটাও ভেসে উঠল। এবারের আইপিএল ক্রিকেটে দারুণ ফর্মে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। হয়তো সেই কারণে প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর ও অন্যান্য সদস্যরাও সঞ্জু স্যামসনের উপর ভরসা রাখতে চাইছেন। অর্থাৎ পরবর্তী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন সঞ্জু স্যামসন। আসলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এখন একেবারেই অফ ফর্মে। আইপিএল ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং ব্যর্থতা দারুণভাবে নজরে পড়েছে। তিনি যেভাবে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন, সেখান থেকে একেবারে তলানিতে চলে এসেছেন। সেই জন্যই নির্বাচকরা কোনওভাবেই সূর্যকুমার যাদবের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।

চলতি মরশুমে দারুণ ফর্মে রয়েছেন পাঞ্জাব কিংস দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। কিন্তু শ্রেয়সের থেকে বয়সে ছোট সঞ্জু স্যামসনকে পছন্দের কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে তাঁর শান্ত মেজাজ এবং সতীর্থ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার। বিশ্বকাপে শুরুতে সুযোগ না পেলেও, একাদশে ফেরার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর জন্যই শেষ চারে খেলার সুযোগ এসে যায় ভারতের। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৯ রান করেন। তাই অনেকেই ভেবেছিলেন, ফাইনালে স্যামসনের ব্যাট থেকে শতরান দেখতে পাওয়া যাবে। কিন্তু ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অল্পের জন্য শতরান থেকে বঞ্চিত হন সঞ্জু স্যামসন। তবে ফাইনাল ম্যাচ জেতানোর জন্য ৮৯ রান করেন তিনি। এমনকি প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন সঞ্জু স্যামসন।

আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে এবছর চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দিয়ে সঞ্জু একাই লড়ছেন। ১০ ম্যাচে প্রায় ৪০২ রান এবং দু’টি সেঞ্চুরি করে তিনি বর্তমানে অরেঞ্জ ক্যাপের অন্যতম দাবিদার। রাজস্থান রয়্যালসকে আইপিএল ফাইনালে তোলার অভিজ্ঞতা তাঁর নেতৃত্বে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। আর এসবই তাঁকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে।

অধিনায়কত্বের দৌড়ে শ্রেয়স আইয়ারের নাম থাকলেও, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতের টি-২০ সেট-আপে তাঁর অনুপস্থিতি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচকদের একাংশ মনে করছেন, শ্রেয়সকে আগে দলে নিজের জায়গা পাকা করতে হবে, তার পরই নেতৃত্ব নিয়ে কথা উঠবে।

গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতীয় দল এখন তরুণ ও আগ্রাসী ক্রিকেটারদের ওপর বেশি ভরসা রাখছে। অভিষেক শর্মা এবং ঈশান কিষাণ ওপেনিংয়ে নিজেদের প্রমাণ করলেও, মিডল অর্ডারে সঞ্জুর মতো একজন ঠান্ডা মাথার কারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সত্যিই যদি সঞ্জু স্যামসনের হাতে অধিনায়কের ব্যাটনটা তুলে দেওয়া হয়, তাহলে ভারতীয় দলে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।