• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 5 November, 2026

দু’বার এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করার পর আরউইনের গোলে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ল সবুজ-মেরুন বাহিনী

এ বারও অবশ্য ক্ষণস্থায়ী হয় মোহনবাগানের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ। কারণ, বক্সের বাইরে থেকে অনবদ্য শটে গোল করে ৭৮ মিনিটের

দু’বার এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করার পর আরউইনের গোলে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ল সবুজ-মেরুন বাহিনী

Mohunbagan Win Photo-SNS

দুবার এগিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও দুবারই গোল হজম করে তিন পয়েন্ট প্রায় খোয়াতে বসেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। কিন্তু সবুজ-মেরুন সমর্থকদের শেষ পর্যন্ত নিশ্চিন্ত করে ৮৭ মিনিটের মাথায় দেওয়া লি আরউইনের গোল। আর তাতেই মোহনবাগান ঘরের মাঠে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে এদিনও তাদের গোল মিস করার অভ্যাস বেশ ভোগাল। লিগ টেবলে দশ নম্বরে থাকা ওড়িশা একসময় বেশ চাপে ফেলেছিল তাদের। তবে সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

এ দিন প্রথমার্ধের খেলা দেখে বোঝার উপায় ছিল না কারা ঘরের মাঠে খেলছে। মোহনবাগানকে সমানে চাপে রাখার চেষ্টা করে যায় ওড়িশা এফসি। তারা যে লিগ তালিকায় দশ নম্বরে থাকা দল, তা তাদের খেলা দেখে বোঝার উপায় ছিল না। প্রথমার্ধে ওড়িশার দখলে ছিল ৫৮ শতাংশ বল। দুই গোলকিপারকেই এ দিন কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেলেন প্রতিপক্ষের অ্যাটাকাররা।

ওড়িশার গোলকিপার হৃত্বিক তিওয়ারি যেমন একাধিক অনবদ্য সেভ করেন, তেমনই বিশাল কয়েথও তাঁর ক্যারিশমা দেখান এদিন। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে যে রকম ঝড় তুলেছিল মোহনবাগান এবং যে সব গোল মিস করে, তার যত সমালোচনাই হোকক না কেন, তা কম। মোহনবাগান যেখানে প্রথম ৪৫ মিনিটে সাতটি শট রাখে গোলে (সব মিলিয়ে ১২), সেখানে ওড়িশার ‘অন টার্গেট’ শটের সংখ্যা ছিল তিন (সব মিলিয়ে ৫)। এ ছাড়াও তাদের প্রায় দশটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ম্যাচের ১১ মিনিটের মাখায় জেলকোভিচের শট অনবদ্য সেভ করেন হৃত্বিক। তাঁর আরো একটি শট ২৩ মিনিটের মাথায় আটকে দেন হৃত্বিক। লিস্টন কোলাসোর একটি শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মেহতাব সিং, লি আরউইনদের শট জালে জড়ানোর আগে আটকান হৃত্বিক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লিস্টনের শট পোস্টে লাগে এবং দেজান দ্রাজিচের গোলমুখী শটও অনবদ্য সেভ করেন হৃত্বিক।

তবে পাল্টা আক্রমণ হানে ওড়িশাও। ২৫ মিনিটের মাথায় এভার্টন নাসিমেন্টোর হেড থেকে অবধারিত গোল বাঁচান বিশাল। ৩৭ মিনিটে জিওর্জি আবুরজানিয়ার হেডও গোলে ঢোকার আগে আটকান বিশাল।

গোল মিস করার প্রতিযোগিতার পর যখন দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হয়, তখনই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দেজান দ্রাজিচ। অনিরুদ্ধ থাপার থ্রু বক্সের মধ্যে যায় দ্রাজিচের পায়ে। বক্সের মাঝখান থেকে জালে বল জড়াতে এ বার ভুল করেননি।

তবে তাদের এই আনন্দ বেশ ক্ষণস্থায়ী হয়। ৫১ মিনিটের মাথায় গোল শোধ করেন দেয় ওড়িশা। নিহাল সুধীশ বল বাড়ান গোলের সামনে মাহমুদ ইদকে। তিনি বাঁ পায়ে বল গোলে পাঠিয়ে দেন। অর্থাৎ ম্যাচের অবস্থা ফের আগের জায়গায় চলে যায়।

তবে মোহনবাগান ফের গোলের সুযোগ পায়। ৬২ থেকে ৬৫ মিনিটের মধ্যে পরপর তিনবার আরউইন ও লিস্টন গোলের সামনে থেকে বল জালে জড়াতে পারেননি। ফের দুর্দান্ত সেভ করেন হৃত্বিক। এ দিন খেলাটা যেন প্রধানত হৃত্বিকের সঙ্গে সবুজ-মেরুন অ্যাটাকারদেরই হয়। এরপরই লিস্টনকে বসিয়ে লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতেকে নামায় মোহনবাগান। এবং সেই সময় থেকেই অস্ট্রেলীয় ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেনকে গা ঘামাতে দেখা যায়।

তিনি নামার আগেই অবশ্য সবুজ-মেরুন বাহিনীর দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলেন দ্রাজিচ। ডানদিক থেকে ছাঙতের নিখুঁত ক্রস পেয়ে গোলের সামনে থেকে বল ঠেলে দেন তিনি। ৭৫ মিনিটের এই গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং মনবীর ফের গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।

এ বারও অবশ্য ক্ষণস্থায়ী হয় মোহনবাগানের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ। কারণ, বক্সের বাইরে থেকে অনবদ্য শটে গোল করে ৭৮ মিনিটের মাথায় ফের সমতা এনে ফেলেন এভার্টন। তারপর ফের এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শুরু। এই গোলের পরে দীপক টাঙরি, জেমি ম্যাকলারেনকে নামায় মোহনবাগান। তুলে নেওয়া হয় জেলকোভিচ ও মনবীরকে।

এরপরই তিন নম্বর গোলটি করেন মোহনবাগানের আরউইন এবং তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে ফেলেন। বাঁদিক থেকে ওঠা অনিরুদ্ধ থাপার ক্রস গোলের সামনে ক্লিয়ার হওয়ার পর আসে আরউইনের পায়ে। তিনি গোলে বল ঠেলতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি। তখন নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর মাত্র তিন মিনিট বাকি। সংযুক্ত সময়ে অনিরুদ্ধ থাপার শট সাইড নেটে লাগে। মিস করেন ছাংতেও।