আইপিএলে ম্যাচ গড়াপেটা এবং স্পট ফিক্সিং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন এক রঞ্জি ক্রিকেটার। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের আইপিএলে তিনি নিজেই পাঁচটি ম্যাচ গড়াপেটা করেছিলেন। এমনকি ২০২৬ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের এক ক্রিকেটারের সঙ্গে সমঝোতা করে দলের প্রথম একাদশ সংক্রান্ত গোপন তথ্য জুয়াড়িদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও গড়াপেটা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন ওই ক্রিকেটার। যদিও কোনও ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ্যে জানাননি তিনি।
নাগাল্যান্ডের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলা রাচিত ভাটিয়ার এই দাবিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রিকেটমহলে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাচিত দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ গড়াপেটা করে প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ টাকা করে পেয়েছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মোট ৩ কোটি টাকা পেয়েছিলেন তিনি।
রাচিতের কথায়, “স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে চেন্নাইয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করেছি। ২০২৫ সালের আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ গড়াপেটা করেছি। ম্যাচ প্রতি ৬০ লাখ টাকা করে মোট ৩ কোটি টাকা পেয়েছি।”
শুধু আইপিএল নয়, পুরনো একটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও গড়াপেটার দাবি করেছেন রাচিত। তাঁর বক্তব্য, ২০১৮-১৯ মরসুমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ইচ্ছাকৃত ভাবে দু’টি ওয়াইড বল করেছিলেন। প্রতিটি বলের জন্য ৮ লাখ টাকা করে পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। অর্থাৎ দু’টি বলের জন্য মোট ১৬ লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওই ক্রিকেটার।
কী ভাবে গড়াপেটা করা হয়, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন রাচিত। তাঁর দাবি, টসের আগে দলের প্রথম একাদশ সংক্রান্ত গোপন তথ্য জুয়াড়িদের দেওয়া যায়। আবার ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তকে প্রভাবিত করার জন্য স্পট ফিক্সিংও করা হয়। তাঁর দাবি, আইপিএলে প্রথম একাদশ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ৬০ লাখ টাকা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়া হত।
দিল্লি প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেছেন রাচিত। তাঁর দাবি, সেখানে প্রথম একাদশের তথ্য দেওয়া কিংবা স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ৪০ লাখ টাকা করে দেওয়া হত। তাঁর বক্তব্য, আইপিএলে যে চেন্নাইয়ের ক্রিকেটার তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, তিনি দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলবেন।
তবে ২০২৬ সালের আইপিএলে তাঁর পরিকল্পনা সফল হয়নি বলেও জানিয়েছেন রাচিত। তাঁর দাবি, যে ক্রিকেটারকে গড়াপেটার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, তিনি চেন্নাইয়ের হয়ে কোনও ম্যাচেই প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি। ফলে আইপিএলে পরিকল্পনা মতো গড়াপেটা করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই ক্রিকেটার দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলেন বলে দাবি করেছেন রাচিত।
এ ছাড়াও নাগাল্যান্ডের রঞ্জি দলে জায়গা পাওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার দাবিও করেছেন তিনি। রাচিতের বক্তব্য, ওই টাকা দেওয়ার পরই ২০১৮-১৯ মরসুমে নাগাল্যান্ডের হয়ে তাঁর রঞ্জি অভিষেক হয়।
রাচিতের এই বিস্ফোরক দাবির পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থার সচিব অশোক শর্মা জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত চেয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজন হলে ম্যাচের ভিডিয়ো ফুটেজও তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে।
অশোক শর্মা আরও জানিয়েছেন, অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে জড়িত ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, দেশের স্বার্থই প্রথম। একই সঙ্গে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, লিগের সঙ্গে বহু তরুণ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। কোনও অনিয়মের কারণে প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়বে বহু ক্রিকেটারের উপর।
রাচিত নির্দিষ্ট করে কোনও ক্রিকেটারের নাম না বললেও তাঁর অভিযোগের পর সন্দেহের তির উঠেছে বংশ বেদীর দিকে। চোটের কারণে চেন্নাইয়ের হয়ে এ বার কোনও ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। তবে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। যদিও বংশ বেদীর বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফেও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




