• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 9 September, 2026

ইউএস ওপেন: দুই সেট পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন তিয়াফোর, শেষ চারে সাবালেঙ্কাও

মনে হচ্ছিল, নিজের দেশের কোর্টে মিশেলসেনই লিখতে চলেছেন নতুন রূপকথা। এর আগে এই প্রতিযোগিতায় একটিও সেট হারেননি তিনি। এ বারই প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোয়ার্টার ফাইনালেই উঠে এসেছিলেন

ইউএস ওপেন: দুই সেট পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন তিয়াফোর, শেষ চারে সাবালেঙ্কাও

Photo: Representational Image

হার প্রায় নিশ্চিত ছিল। দুই সেট পিছিয়ে ছিলেন তিনি। তার পর পঞ্চম সেটেও ০-৩। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়! ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে (US Open Semi-Finals) এমনই অবিশ্বাস্য ভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন ফ্রান্সেস তিয়াফো (Frances Tiafoe)। চার ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের ম্যারাথন লড়াইয়ে সতীর্থ অ্যালেক্স মিশেলসেনকে ৫-৭, ৩-৬, ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ (১০-৬) হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে গেলেন আমেরিকার ১১ নম্বর বাছাই।

ম্যাচের শুরু থেকেই তিয়াফোকে (Frances Tiafoe) চাপে রেখেছিলেন ২২ বছরের মিশেলসেন। প্রথম দুই সেটে তিয়াফোর খেলা তাঁর স্বাভাবিক ছন্দের ধারেকাছেও ছিল না। প্রথম সেটে ৫-৭ হারার পরে দ্বিতীয় সেটেও ৩-৬ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মনে হচ্ছিল, নিজের দেশের কোর্টে মিশেলসেনই লিখতে চলেছেন নতুন রূপকথা। এর আগে এই প্রতিযোগিতায় একটিও সেট হারেননি তিনি। এ বারই প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোয়ার্টার ফাইনালেই উঠে এসেছিলেন।

তৃতীয় সেটেও একটা সময় ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল মিশেলসেনের। ৫-৪ গেমে ম্যাচ জয়ের জন্য সার্ভ করছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিক সেই সময় পর পর দু’টি ডাবল ফল্ট! সুযোগ পেয়ে যান তিয়াফো। অভিজ্ঞ আমেরিকান তারকা আর পিছনে ফিরে তাকাননি। তৃতীয় সেট ৭-৫ জিতে ম্যাচে ফেরার দরজা খুলে ফেলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ইন্টারকে হারিয়ে রিয়াল কোচ মোরিনিয়ো কেন বললেন, ‘পাগলামি’? জোড়া গোলের পর হালান্ডের হাতাহাতি

এর পর চতুর্থ সেটে তিয়াফোর দাপট। ৬-৩ জিতে ম্যাচ সমতায় নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু শেষ সেটেও স্বস্তি ছিল না। মিশেলসেন শুরুতেই ৩-০ এগিয়ে যান। সেই পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখেন তিয়াফো (Frances Tiafoe)। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরেন, শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যান ১০ পয়েন্টের টাইব্রেকারে। সেখানে ১০-৬ জিতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করেন তিনি।

ম্যাচ জয়ের পরে তিয়াফোর (Frances Tiafoe) মুখে স্বস্তির হাসি। বললেন, ‘এই মুহূর্তটার গুরুত্ব অনেক। এখানে আমি অনেক দুর্দান্ত ম্যাচ জিতেছি, আবার অনেক কঠিন ম্যাচও হেরেছি। আজ এই ম্যাচটা জিততে পেরে অসাধারণ লাগছে।’

নেটের কাছে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মিশেলসেনকে জড়িয়ে ধরেন তিয়াফো (Frances Tiafoe)। কান্নায় ভেঙে পড়েন মিশেলসেন। পরে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা মানসিক ভাবে ভীষণ ক্লান্তিকর ছিল। ফ্রান্সেস খুব ভাল মানুষ। ও আমাকে কিছু ব্যক্তিগত কথা বলে, যেগুলো আমাকে আরও আবেগপ্রবণ করে দেয়।’

এই নিয়ে গত পাঁচ বছরে তৃতীয় বার ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন তিয়াফো (Frances Tiafoe)। এখন তাঁর সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। শেষ চারে তাঁর প্রতিপক্ষ হতে পারেন গত বারের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ অথবা অষ্টম বাছাই আমেরিকার বেন শেলটন।

 

প্রবল চাপ সামলেও জয় সাবালেঙ্কার (Aryna Sabalenka)

ইউএস ওপেন কোয়ার্টার ফাইনালে লিন্ডা নোসকোভার বিরুদ্ধে প্রবল চাপে পড়েও হার মানলেন না আরিনা সাবালেঙ্কা (Aryna Sabalenka)। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কা শেষ পর্যন্ত ৭-৬ (৭-১), ৩-৬, ৭-৬ (১০-৭) জিতে উঠে পড়লেন শেষ চারে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই টেনিস তারকার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রথম সেট টাইব্রেকারে ৭-১ জিতে নেন বিশ্বের এক নম্বর। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান ২০২৬ উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন নোসকোভা। সাবালেঙ্কার একাধিক ব্রেক পয়েন্ট বাঁচিয়ে দেন তিনি। পঞ্চম গেমে ফের সুযোগ নষ্ট করার পরে ষষ্ঠ গেমে সাবালেঙ্কার সার্ভ ভেঙে ৪-২ এগিয়ে যান চেক প্রজাতন্ত্রের ষষ্ঠ বাছাই। শেষ পর্যন্ত ৬-৩ ব্যবধানে দ্বিতীয় সেট জিতে ম্যাচ সমতায় ফেরান নোসকোভা।

আরও পড়ুন: ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন আক্রম, ‘জেলে থাকুন বা না থাকুন, ওঁর স্বাস্থ্যের সুরক্ষা জরুরি’

তৃতীয় সেটে আরও জমে ওঠে লড়াই। ২-৩ পিছিয়ে থাকার সময় সাবালেঙ্কার  (Aryna Sabalenka)সার্ভ ভেঙে ৪-২ এগিয়ে গিয়েছিলেন নোসকোভা। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বের এক নম্বরকে বিদায় জানিয়ে নতুন চমক দেখাতে চলেছেন উইম্বলডন জয়ী। কিন্তু সেখানেই নিজের সেরাটা বার করে আনেন সাবালেঙ্কা। সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক ফিরিয়ে দেন। এর পর দু’জনেই নিজেদের সার্ভিস ধরে রাখেন। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

সেই টাইব্রেকারের শুরুটাও সাবালেঙ্কার পক্ষে ছিল না। প্রথম দু’টি পয়েন্ট হারান তিনি। কিন্তু তার পরেই বদলে যায় ছবিটা। পর পর পয়েন্ট জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন বিশ্বের এক নম্বর। শেষ পয়েন্টে দ্বিতীয় সার্ভ থেকেই দুরন্ত একটি এস মেরে ম্যাচ শেষ করেন সাবালেঙ্কা।

ম্যাচের পরে সাবালেঙ্কার (Aryna Sabalenka) মুখে স্বস্তি। বললেন, ‘কী লড়াই! এই ম্যাচে, বিশেষ করে তৃতীয় সেটে, নিজেকে সীমার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ঠেলে দিতে হয়েছে। সত্যি বলতে, একটা সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটা শেষ হয়ে গিয়েছে। আর সেই কারণেই হয়তো আমি একটু চাপমুক্ত হয়ে নিজের শটগুলো খেলতে পেরেছি।’

এই জয় শুধু সেমিফাইনালের টিকিটই নয়, সাবালেঙ্কার সামনে খুলে দিল আরও বড় ইতিহাস গড়ার পথ। ২০২৪ এবং ২০২৫—টানা দু’বার ইউএস ওপেন জিতেছেন তিনি। এ বার নিউ ইয়র্কে হ্যাটট্রিক করতে চান বেলারুশের তারকা। টানা তিন বার ইউএস ওপেন জিততে পারলে তিনি ক্রিস এভার্ট এবং সেরিনা উইলিয়ামসের সঙ্গে বিরল তালিকায় ঢুকে পড়বেন। তবে তার আগে সেমিফাইনালে কঠিন পরীক্ষা। শেষ চারে সাবালেঙ্কার (Aryna Sabalenka)সামনে থাকবেন জেসিকা পেগুলা বা এমা নাভারো।

দেখুন: