• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 9 September, 2026

ইন্টারকে হারিয়ে রিয়াল কোচ মোরিনিয়ো কেন বললেন, ‘পাগলামি’? জোড়া গোলের পর হালান্ডের হাতাহাতি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মরসুমের প্রথম ম্যাচেই ইন্টারকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পেয়েছে রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপের গোলে শুরুতেই এগিয়ে যায় তারা। পরে ফেদেরিকো ভালভার্দের গোলেও ব্যবধান বাড়ে

ইন্টারকে হারিয়ে রিয়াল কোচ মোরিনিয়ো কেন বললেন, ‘পাগলামি’? জোড়া গোলের পর হালান্ডের হাতাহাতি

Photo: Representational Image

জয়ের আনন্দ আছে। কিন্তু স্বস্তি? একেবারেই নয়। বরং রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মোরিনিয়োর চোখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ছিল একেবারে ‘পাগলাটে’ ফুটবল। তাঁর মতে, মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে রিয়াল ২-১ জিতলেও ম্যাচের ফল ৫-০, ৫-৫, এমনকি ৭-৬-ও হতে পারত!

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মরসুমের প্রথম ম্যাচেই ইন্টারকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পেয়েছে রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপের (Kylian Mbappe) গোলে শুরুতেই এগিয়ে যায় তারা। পরে ফেদেরিকো ভালভার্দের গোলেও ব্যবধান বাড়ে। ইন্টার অবশ্য ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রিয়াল জয় পেলেও ম্যাচের দখল কোনও সময়ই পুরোপুরি মোরিনিয়োর দলের পায়ে ছিল না।

ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়াকে মোরিনিয়ো বলেন, ‘ফলটা ভালই লেগেছে। এত শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে যাঁরা বাড়িতে বসে খেলা দেখেছেন, তাঁদের জন্য ম্যাচটা দুর্দান্ত ছিল। তবে আমার এবং ক্রিস্তিয়ান কিভুর পক্ষে নয়।’

এর পরেই ম্যাচের চরিত্র বোঝাতে মোরিনিয়োর মুখে উঠে আসে বিস্ফোরক মন্তব্য। তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচটায় পুরো পাগলামি হয়েছে। আমাদের পক্ষে ৫-০ হতে পারত, ৫-৫ হতে পারত, ৭-৬ বা ৫-৬-ও হতে পারত। এত বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছিল! ইন্টার খুব শক্তিশালী দল। আমাদের মাঝমাঠের পক্ষে নীচে নেমে ওদের আটকানো কঠিন ছিল। অথচ প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আমরা ৩-০ করে ম্যাচটা শেষ করে দিতে পারতাম।’

দ্বিতীয়ার্ধেও সুযোগ এসেছিল রিয়ালের সামনে। মোরিনিয়ো যোগ করেন, ‘বেলিংহ্যামের কাছেও একটা সুযোগ এসেছিল। ইন্টারও বেশ কয়েকটি গোল করতে পারত। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব কিছু ওপেন ছিল। সত্যিই এটা ছিল একেবারে পাগলাটে ফুটবল ম্যাচ।’

আরও পড়ুন: ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন আক্রম, ‘জেলে থাকুন বা না থাকুন, ওঁর স্বাস্থ্যের সুরক্ষা জরুরি’

এমবাপে (Kylian Mbappe) গোল করলেও ম্যাচে তাঁর কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্যালারির একাংশে অসন্তোষ দেখা যায়। ফরাসি তারকাকে নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন মোরিনিয়ো। বরং তাঁর প্রশংসাই করেছেন রিয়াল কোচ। তাঁর কথায়, ‘এমবাপে (Kylian Mbappe) খুব পরিশ্রম করেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি গোল করেছে। আরও দু’-তিনটি সুযোগ পেয়েছিল, যেগুলো সাধারণত ও কাজে লাগায়। কিন্তু আমি চিন্তিত নই। ও সব সময়ই গোল করবে। এ মরসুমেও ও নিশ্চিত ভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে থাকবে। দলের জন্যও ও খুব পরিশ্রম করে। তাই ওকে নিয়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’

এই ম্যাচে মোরিনিয়োর জন্য আরও একটি আবেগের জায়গা ছিল ইন্টারের ডাগআউটে থাকা ক্রিস্তিয়ান কিভু। ২০১০-এ মোরিনিয়োর কোচিংয়ে ইন্টার যে ঐতিহাসিক ত্রিমুকুট জিতেছিল, সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন কিভু। ম্যাচের আগে ও পরে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।

তবে পরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে মোরিনিয়ো হয়তো আরো আবেগে ভাসবেন। রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে তাঁর মুখোমুখি হবে তাঁরই প্রাক্তন ক্লাব রোমা। যে ক্লাব তাঁকে ছাঁটাই করেছিল, সেই রোমার মাঠে এ বার তিনি রিয়ালের কোচ হয়ে ফিরবেন।

মোরিনিয়ো বলছেন, আবেগ থাকবে, তবে ম্যাচ চলাকালীন নয়। ‘গত মরসুমে চেলসির বিরুদ্ধে খেলেছি, এ বার আরও এক প্রাক্তন ক্লাব। এমনটা হয়। রোমায়, রোমের বিরুদ্ধে এটাই আমার প্রথম ম্যাচ। অবশ্যই আবেগ থাকবে। তবে সেটা ম্যাচের আগে এবং পরে। ম্যাচ চলাকালীন আমার চোখে শুধু খেলা থাকবে।’

আর তাঁকে কেন ফিরিয়ে আনতে এতটা মরিয়া ছিলেন রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেস? মোরিনিয়োর জবাবটাও তাঁর চেনা ভঙ্গিতেই— আত্মবিশ্বাসী, খানিকটা দম্ভের সুরে। ‘কারণ পরিস্থিতি কঠিন ছিল। পরিস্থিতি সহজ হলে আমি সেই মানুষ নই, যাঁকে দরকার হয়। কঠিন হলে ডাক পড়ে হোসের।’

আরও পড়ুন: আবার নীল জার্সিতেই ফিরছে ভারতীয় হকি দল, এশিয়ান গেমসের আগে কেন ফের জার্সির রঙ বদল?

জোড়া গোলের পরেই হাতাহাতি, হালান্ডের নাটকীয় রাত

 

গোল করলেন দু’টি। গড়লেন একাধিক নজির। তার পরেই জড়িয়ে পড়লেন উত্তপ্ত সংঘর্ষে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মরসুমে আর্লিং হালান্ডের শুরুটা একই সঙ্গে সাফল্য এবং নাটকে ভরা। মঙ্গলবার পোর্তোর মাঠে ২-০ জেতে ম্যানচেস্টার সিটি। দুই গোলই হালান্ডের। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে হেড করে প্রথম গোল করেন নরওয়ের স্ট্রাইকার। সংযুক্ত সময়ে, দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের যাবতীয় উত্তেজনার ইতি টানেন তিনি।

কিন্তু দ্বিতীয় গোলের পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পোর্তোর মিডফিল্ডার পাবলো রোসারিওর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন হালান্ড। রোসারিওর একটি লেট চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান সিটির স্ট্রাইকার। উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন তিনি এবং দু’জনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রেফারি দু’জনকেই হলুদ কার্ড দেখান।

মাঠের সেই উত্তেজনার মাঝেও হালান্ডের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। পোর্তোর বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৫৯—এই লিগে ৫৯ ম্যাচেই ৫৯ গোল! সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর গোলসংখ্যা ৩৬।

ম্যাচের পর হালান্ড বললেন, ‘কঠিন লড়াই ছিল। ওরা দারুণ দল। সত্যি বলতে, ওরা আমাদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। এত চাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের নিজেদের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা সেটাই করেছি।’

প্রথমার্ধে কেউ গোল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হালান্ডের হেডে এগিয়ে যায় সিটি। পরে পোর্তো সমতা ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ালেও সিটির রক্ষণ সেই চাপ সামলে নেয়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে হালান্ডের দ্বিতীয় গোলেই ম্যাচের ফল নিশ্চিত হয়। নতুন কোচ এনজ়ো মারেস্কার অধীনে সিটির এটি টানা চতুর্থ জয়।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ের শুরুটাও তাই নিখুঁত। পরের ম্যাচে সিটির সামনে ঘরের মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ জরমাঁ। এই ম্যাচে নজর কেড়েছেন ১৮ বছরের আয়ুব বুয়াদিও। সিটির হয়ে প্রথম বার শুরু করে মাঝমাঠে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছেন মরক্কোর এই তরুণ। ম্যাচের পর হালান্ড তাঁর প্রশংসাও করেন।

মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যান্য ম্যাচে জেতে অ্যাস্টন ভিলা (বনাম ক্লাব ব্রুগ, ৩-২), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (বনাম ভিয়ারিয়াল, ৩-২), এইকে (বনাম এলএএসকে, ১-০), রিয়াল বেতিস (বনাম এলওএসসি, ৩-২)।

বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করছে বার্সেলোনা, আর্সেনাল, লিভারপুল, পিএসজি, ভিএফবি স্টুর্টগার্ট, গালাতাসারে, পিএসভি-র মতো বিশ্বখ্যাত ক্লাবগুলি। ভারতে ম্যাচগুলি দেখা যাবে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কের চ্যানেলে ও সোনি লিভ অ্যাপে।

দেখুন: ভারত-রাশিয়া সম্পর্কে নতুন গতি, বাণিজ্য থেকে মহাকাশে সহযোগিতা বাড়ার ইঙ্গিত রাশিয়ার