• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 13 August, 2026

দুরন্ত লড়াই ইস্টবেঙ্গলের, আল আরাবির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মূলপর্বে ইস্টবেঙ্গল

নির্ধারিত সময়ে প্রচুর সুযোগ নষ্ট করলেও অতিরিক্ত সময়ে তার প্রায়শ্চিত্ত করে পরপর গোল করে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন মহম্মদ রশিদ, ডেভিড লালনসাঙ্গা, রোহিত দানু-রা। তার আগে নির্ধারিত সময়ে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরেও সমতা আনেন জয় গুপ্তা

দুরন্ত লড়াই ইস্টবেঙ্গলের, আল আরাবির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মূলপর্বে ইস্টবেঙ্গল

Photo: Representational Image

এএফসির মঞ্চে জ্বলে উঠল মশাল । কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-১-এ হারিয়ে এই প্রথম এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র অর্জন করে নিল ইস্টবেঙ্গল এফসি (EBFC )। নির্ধারিত সময়ে প্রচুর সুযোগ নষ্ট করলেও অতিরিক্ত সময়ে তার প্রায়শ্চিত্ত করে পরপর গোল করে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন মহম্মদ রশিদ, ডেভিড লালনসাঙ্গা, রোহিত দানু-রা। তার আগে নির্ধারিত সময়ে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরেও সমতা আনেন জয় গুপ্তা।

কুয়েতের অন্যতম সেরা দল আল আরাবি (Al Arabi of Kuwait), প্রচুর প্রস্তুতি নিয়ে কলকাতায় এসেছিল ইস্টবেঙ্গলকে  (EBFC )হারানোর উদ্দেশ্য নিয়ে। অনেকেই ভেবেছিল পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পুরো দলের অভাবে ইস্টবেঙ্গলকে (EBFC ) গোহারান হারতে হবে। বহু সমর্থকও হয়তো আস্থা রাখতে পারেননি প্রিয় দলের উপর। তাই বুধবার সন্ধ্যায় হাজার কুড়ির বেশি দর্শক হয়নি যুবভারতীর গ্যালারিতে। গ্যালারির বেশিরভাগ ফাঁকাই ছিল। যাঁরা আসতে পারলেন না, তাঁরা যে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারলেন না, তা ভেবে হয়তো বহু দিন আক্ষেপ করবেন।

বুধবার ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলে লাল হলুদ ব্রিগেড (EBFC )। প্রথমার্ধে যেভাবে জেসিন টিকে, রশিদ, দানি রামিরেজরা সুযোগ নষ্ট করেন, তাকে অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে। এই সুযোগগুলি হাতছাড়া না হলে এএফসির মঞ্চে চার-পাঁচ গোলে জয়ের সেলিব্রেশনের প্রস্তুতি আগেই শুরু করে দিতে পারতেন লাল হলুদ সমর্থকেরা (EBFC )। তুলনায় কিছুটা হলেও খোলসে ঢুকে থাকতে দেখা যায় আল আরাবি (Al Arabi of Kuwait)-কে। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ পকেটে পুড়ে ফেলতে পারত ইস্টবেঙ্গল (EBFC )।

আরও পড়ুন: বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মেসি, আবেগঘন খোলা চিঠিতে ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়েও বাড়ালেন জল্পনা

ম্যাচের ৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মহম্মদ রশিদের শট কোনোক্রমে বাঁচান প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক সুলাইমান। তারপরেও একাধিক আক্রমণ গড়ে তুলেছিল অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। দিনের সহজতম সুযোগ নষ্ট করেন জিকসন সিং। জেসিন টিকে-র থ্রো বল ধরে বক্সে ঢুকলেও শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে, আল আরাবি (Al Arabi of Kuwait) প্রথম গোলমুখী আক্রমণ গড়ে তোলে ১৯ মিনিটের মাথায়। এর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই প্রতিপক্ষের শট গোলে ঢোকার মুখে আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল (EBFC ) গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। ২৮ মিনিটে কার্যত একা গোলরক্ষককে পেয়েও অদ্ভুত ভাবে পাস করতে গিয়ে ব্যর্থ হন জেসিন। তা না করলে হয়তো প্রথম গোলটা তিনিই পেয়ে যেতেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল আল আরাবি (Al Arabi of Kuwait)। ৪৯ মিনিটে আনায়ো ইওয়ালার শট দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন গিল। পরের মিনিটেই মাঝমাঠ থেকে রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে জেসিন বিপিনকে বক্সের মধ্যে প্রায় গোল সাজিয়ে দিলেও ফের ব্যর্থ হন তিনি। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই রামিরেজের কর্নার থেকে সুযোগ নষ্ট করেন রশিদ।

ছন্দপতন ঘটে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে। লাল হলুদ বক্সে গতি বাড়িয়ে ঢুকে পড়েন কেনান মালেকো। তাঁকে আটকাতে পিছন থেকে তাঁর জামা টেনে ধরে তাঁকে ফেলে দেন সন্দীপ মান্ডি। তাজিকিস্তানের রেফারি গুলমুরোদি সাদুল্ল সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে ভুল করেননি। যা থেকে ম্যাচের জয়সূচক গোলটি করে যান ইওয়ালা।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের আগে গৌতম গম্ভীরদের সামনে একাধিক নির্বাচনী ধাঁধা, কেমন হতে পারে ভারতের প্রথম এগারো?

এই গোলের পরই ক্রিস ইকোনোমিডিসকে মাঠে নামান লাল হলুদ কোচ হাবাস। পাশাপাশি, প্রতিপক্ষ গোল লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন রশিদ, বিষ্ণু, রোহিত-রা। যার ফল, ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পায় ইস্টবেঙ্গল (EBFC )। রশিদের ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে দুরন্ত গোল করেন ডিফেন্ডার জয় গুপ্তা। ইস্টবেঙ্গলের (EBFC ) জয়ের ভিত গড়া শুরু করেন তিনিই।

ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে সেখানেও প্রথমার্ধে কোনও গোল হয়নি। তবে শেষ ১৫ মিনিটে জমে ওঠে নাটক। এই ১৫ মিনিটেই লাল হলুদ রূপকথার সাক্ষী থাকে মাঠে উপস্থিত ভাগ্যবান হাজার কুড়ি সমর্থক। প্রতিপক্ষের ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, ১০৮ মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন রশিদ।

তার পর যেন নির্ধারিত সময়ে একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্টের প্রায়শ্চিত্ত শুরু করেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। অতিরিক্ত সময়ের এই অর্ধে মাত্র চার মিনিটের মধ্যে আরো দু’টি গোল করে দলকে অসাধারাণ ও স্মরণীয় জয় এনে দেন ডেভিড লালনসাঙ্গা ও রোহিত দানু।

এই জয়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় সন্দীপ মান্ডিকে। তাঁর ভুলেই পিছিয়ে পড়েছিল দল। কিন্তু এই ভুলের জন্য তরুণ সন্দীপকে হতাশায় ডুবে জেতে দেননি তাঁর সতীর্থরা। তাঁর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তাঁর সতীর্থরা। অসাধারণ এই দলগত ফুটবলই এ দিন হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গলের  (EBFC )সাফল্যের চাবিকাঠি।

এ বার সামনে আরো কঠিন লড়াই। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ গ্রুপ পর্বে কাদের বিরুদ্ধে খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে (EBFC ), তা জানা যাবে ১৮ অগাস্ট। তবে গ্রুপে তাদের সঙ্গে যারাই পড়ুক, আল আরাবির (Al Arabi of Kuwait) চেয়ে যে কঠিন দলই পড়বে, এই নিয়ে সন্দেহ নেই। তাই লড়াইও অনেক কঠিন হবে। সেই লড়াইয়ের জন্য যে প্রস্তুত হাবাস-বাহিনী, তা এই ম্যাচেই বুঝিয়ে দিল।

দেখুন: