• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

সবুজ-মেরুনের সিনিয়রদের আটকে দিল ইস্টবেঙ্গলের রিজ়ার্ভ! ডার্বিতে ১-১ ড্র, বারাসতে জমজমাট বড় ম্যাচ

শেষ পর্যন্ত অবশ্য সফল হয় ইস্টবেঙ্গল। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে আসে সমতা ফেরানোর গোল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মহম্মদ

সবুজ-মেরুনের সিনিয়রদের আটকে দিল ইস্টবেঙ্গলের রিজ়ার্ভ! ডার্বিতে ১-১ ড্র, বারাসতে জমজমাট বড় ম্যাচ

CFL Derby Draw Match Photo-SNS

এক দিকে মোহনবাগানের একাধিক সিনিয়র তারকা। অন্য দিকে, ইস্টবেঙ্গলের রিজ়ার্ভ দল। কাগজে-কলমে তাই লড়াইটা অসম-ই বলা যায়। কিন্তু ডার্বির মাঠে কাগজের হিসাব চলে না! বারাসতে সেটাই ফের প্রমাণ করে দিল লাল-হলুদ বাহিনী। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে এক গোল পিছিয়ে থেকেও দুরন্ত লড়াই করে ১-১ ড্র করল ইস্টবেঙ্গলের রিজার্ভ দল। ফলে কলকাতা লিগে অপরাজিত থাকার দৌড়ও বজায় রাখল তারা।

ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে এডমন্ড লালরিনডিকার হ্যাটট্রিক এখনও সমর্থকদের মুখে মুখে ঘোরে। তার পরেই কলকাতা লিগের ডার্বি। তবে এ বার ইস্টবেঙ্গলের মূল দলের ফুটবলারদের মাঠে নামায়নি তারা। হেড কোচ হাবাস বলেই দিয়েছিলেন, জুনিয়ররাই চাপ সামলাতে শিখুক। এই ম্যাচে খেলার সুযোগ জুনিয়রদেরই প্রাপ্য। ফলে রিজ়ার্ভ দলের তরুণদের উপরেই দায়িত্ব ছিল বড় ম্যাচ সামলানোর।

অন্য দিকে, মোহনবাগান কোচ প্যানাগিওতিস দিমপেরিস বেশ কয়েক জন প্রথম দলের ফুটবলারকে এই ম্যাচে নামান। রাহুল ভেকে, মেহতাব সিং, শুভাশিস বোস, মনবীর সিং, সহাল আব্দুল সামাদ, আপুইয়া—কে ছিল না সেই দলে?

শুরু থেকেই মোহনবাগান আক্রমণে ওঠে ছ’মিনিটের মাথায় বাঁ দিক থেকে সায়ন ব্যানার্জি ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ অবশ্য সেই আক্রমণ সামলে দেয়। তারাও পিছিয়ে ছিল না। তবে প্রথমার্ধে মোহনবাগানের অভিজ্ঞতার চাপ সামলাতে হয়েছে তাদের। ৩৯ মিনিটে সেই চাপ থেকেই গোল।

দীর্ঘ পাস পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে আনেন মনবীর সিংহ। ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গৌরব শ নিজের জায়গা ছেড়ে অনেকটা বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সময় মতো ফিরতে পারেননি। মনবীরের শট জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর গোল হয়নি। বিরতিতে মোহনবাগান এগিয়ে ১-০। তবে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। বিপরীতে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণও একাধিক বার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে বাঁচিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৪ মিনিটের মাথায় আপুইয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে নাকে গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মনোতোষ মাঝি। মাঠ থেকেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় তাঁকে। তাঁর পরিবর্তে নামেন মহম্মদ বিলাল।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য ইস্টবেঙ্গল। শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপায় লাল-হলুদ। ৫৫ মিনিটে মোহনবাগানের রক্ষণে ভুল বোঝাবুঝি। মেহতাব ও গোলরক্ষক দীপপ্রভাত প্রায় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বসেন। সেই সুযোগে বল পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। সামনে প্রায় ফাঁকা গোল। কিন্তু আকাশ হেমব্রম সেই সহজ সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি!

তার কয়েক মিনিট পর আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়। তন্ময় দাস বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। তা আটকে যায় মোহনবাগানের রক্ষণে। ফিরতি বলে বিজয় মুর্মুর সামনে প্রায় খোলা গোল ছিল। কিন্তু হাফ-ভলি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। তখনও ১-০ এগিয়ে মোহনবাগান।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য সফল হয় ইস্টবেঙ্গল। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে আসে সমতা ফেরানোর গোল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মহম্মদ বিলাল দুরন্ত হেডে বল জড়িয়ে দেন জালে। ১-১! ম্যাচে ফিরে আসে লাল-হলুদ।

এর পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। মোহনবাগান ফের গোলের জন্য চাপ বাড়ায়। ৮৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া গোলমুখের জটিল পরিস্থিতিতে সায়নের টোকা গোলে প্রায় ঢুকেই যাচ্ছিল। কিন্তু দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় হাত বাড়িয়ে বল বার করে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গৌরব শ। তাঁর সেই সেভ ম্যাচে লাল-হলুদের হার বাঁচিয়ে দেয়।

অন্য দিকে, ইস্টবেঙ্গলও জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৭৯ মিনিটে বিলাল আবার হেড করেন, কিন্তু কড়া মার্কিংয়ের মধ্যেও তাঁর প্রচেষ্টা গোলের বাইরে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে আকাশ হেমব্রমের শট সাইড-নেটে লাগে।

শেষ ছয় মিনিটের সংযুক্ত সময়েও গোলের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি কোনো পক্ষই। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরলাইন বলে দেয়—ইস্টবেঙ্গল ১, মোহনবাগান ১।

ফলে ডুরান্ডের ৪-১ হারের বদলা নেওয়া হল না মোহনবাগানের। বরং ইস্টবেঙ্গলের রিজার্ভ দলের লড়াকু মানসিকতার সামনে থমকে গেল সবুজ-মেরুনের সিনিয়ররা। কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে জায়গা করে নিয়েছিল দু’দলই। কিন্তু ডার্বির ম্যাচে এই এক পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।