• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 27 October, 2026

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ প্রথম জয়ের খোঁজে ইস্টবেঙ্গল, ওমানে হাবাসের সামনে আল-সিব চ্যালেঞ্জ

মাঝমাঠে দানির সৃজনশীলতা এবং আক্রমণে লোবার উপস্থিতি ইস্টবেঙ্গলকে বাড়তি শক্তি দেবে। পিভি বিষ্ণু বা এডমন্ড লালরিন্দিকার খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে রক্ষণে আনোয়ার আলি ও দিয়েগো জিভুলিচের বোঝাপড়া আরো উন্নত করে তুলতে হবে।

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ প্রথম জয়ের খোঁজে ইস্টবেঙ্গল, ওমানে হাবাসের সামনে আল-সিব চ্যালেঞ্জ

Photo: EBFC practice in Oman (X)

ঘরোয়া ফুটবলে দুরন্ত ছন্দ। কিন্তু এশিয়ার মঞ্চে এখনও জয় অধরা। সেই ছবিটা বদলাতেই মঙ্গলবার ওমানের আল-সিব স্টেডিয়ামে নামছে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষ আল-সিব। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ ডি-র এই ম্যাচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইএসএলে গত বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল নতুন মরসুম শুরু করেছে দুর্দান্ত ভাবে। প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারানোর পরে দ্বিতীয় ম্যাচে ইন্টার কাশীকে উড়িয়ে দিয়েছে ৫-১ গোলে। কিন্তু মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় ছবিটা আলাদা। জর্ডনের আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করার পরে কলকাতায় ইরাকের আল-শোর্তার কাছে ২-৩ গোলে হেরেছে লাল-হলুদ। ফলে দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তাদের অবস্থান খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।

অন্য দিকে, আল-সিব আরো খারাপ জায়গায়। গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে ওমানের ক্লাবটি। ফলে দুই দলের কাছেই মঙ্গলবারের ম্যাচ ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।

এশীয় মঞ্চেও ছন্দ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নজর কেড়েছে ইস্টবেঙ্গলের। দানি রামিরেজ, পিভি বিষ্ণু, আকে লোবা এবং লুকাস জুয়োলিনস্কিরা গোল পেয়েছেন। বিশেষ করে লোবার জোড়া গোল দলের আক্রমণভাগকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। কিন্তু এশিয়ার মঞ্চে শুধু গোল করলেই চলবে না, রক্ষণেও আরও সতর্ক হতে হবে হাবাসের দলকে।

আল-শোর্তার বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। দ্রুত দু’টি গোল হজম করার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে লাল-হলুদকে। আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে দুই গোল করেও জয় আসেনি। তাই আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণ সামলানোও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

East Bengal
Photo: EBFC practice in Oman (X)

‘চ্যাম্পিয়নরা অজুহাত দেয় না’

টানা ম্যাচ, ঘনঘন যাতায়াত এবং বিশ্রামের অভাব—সব মিলিয়ে কঠিন সূচির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে। তবে সেই চাপকে অজুহাত করতে রাজি নন দলের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি রামিরেজ়। তাঁর মতে, দলের ঐক্যই লাল-হলুদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

দানি বলেছেন, ‘এই দলের শক্তি আমাদের একতা। প্রত্যেকে দলের জন্য খেলে। কোচ হাবাস সাজঘরে দুর্দান্ত পরিবেশ তৈরি করেছেন। সূচি কঠিন ঠিকই, কিন্তু চ্যাম্পিয়নরা অজুহাত দেয় না। আমরা তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরতে চাই।’

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আইএসএলে প্রথম গোল করে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে পিভি বিষ্ণুরও। কোচের স্বাধীনতা এবং আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, এ বার তাঁর লক্ষ্য এশীয় মঞ্চেও দলের সাফল্যে অবদান রাখা।

দলে কারা থাকবেন, নজর রক্ষণে

মঙ্গলবারের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের বড় চিন্তা চোট-সমস্যা এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি। প্রথম একাদশ বাছার সময় হাবাসকে সতর্ক থাকতে হবে।

আক্রমণে দানি, লোবা এবং ডেভিড লালনসাঙ্গার মতো ফুটবলারদের উপরেই ভরসা করবেন তিনি। আল-শোর্তার বিরুদ্ধে ডেভিডের জোড়া গোল প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে তিনি বিপক্ষের রক্ষণে বিপদ তৈরি করতে পারেন।

মাঝমাঠে দানির সৃজনশীলতা এবং আক্রমণে লোবার উপস্থিতি ইস্টবেঙ্গলকে বাড়তি শক্তি দেবে। পিভি বিষ্ণু বা এডমন্ড লালরিন্দিকার খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে রক্ষণে আনোয়ার আলি ও দিয়েগো জিভুলিচের বোঝাপড়া আরো উন্নত করে তুলতে হবে।

আল-সিবের বিরুদ্ধে জয় পেলে গ্রুপের লড়াইয়ে নতুন করে আশা দেখবে লাল-হলুদ। কারণ, গ্রুপের প্রথম দুই দল উঠবে নকআউট পর্বে। তাই ওমানে তিন পয়েন্ট পাওয়া শুধু মরসুমের প্রথম এশীয় জয় নয়, পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়েও বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হবে খেলা। সরাসরি সম্প্রচার ফ্যানকোড অ্যাপে।