• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 26 October, 2026

ঘরের মাঠে আল সিবের দাপট সামলানোর কঠিন লড়াই ইস্টবেঙ্গলের, ওমান ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তি এই ক্লাব প্রতিপক্ষ হিসেবে কেমন?

২০২২ সালে ওমান লিগ, সুলতান কাবুস কাপ এবং এএফসি কাপ জিতে ঐতিহাসিক ত্রয়ী জয় করা আল সিবের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ

ঘরের মাঠে আল সিবের দাপট সামলানোর কঠিন লড়াই ইস্টবেঙ্গলের, ওমান ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তি এই ক্লাব প্রতিপক্ষ হিসেবে কেমন?

East Bengal-AL Seeb Photo-SNS

রাত পোহালেই ওমানের সিব-এ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে কঠিন লড়াই গতবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল এফসি-র। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ন’টায় এই কঠিন পরীক্ষায় নামবে লাল-হলুদ বাহিনী। কিন্তু কেন কঠিন পরীক্ষা বলা হচ্ছে এই ম্যাচকে। প্রতিপক্ষ হিসেবে কেমন এই আল সিব? এই প্রতিবেদনে সেই ধারনা দেওয়ারই চেষ্টা হয়েছে।

ওমান ফুটবলের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ক্লাব এই আল সিব— যারা ফুটবল মহলে ‘দ্য এম্পেরর’ বা ‘সম্রাট’ নামে পরিচিত। তবে চলতি মরসুমে ভাল-মন্দ মেশানো সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তারা। ঘরোয়া লিগে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও, মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে মাস্কাটের এই ঐতিহ্যবাহী দলটি।

ওমান প্রফেশনাল লিগে আল সিব বরাবরের মতোই খেতাবের অন্যতম প্রধান দাবিদার। বর্তমানে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে তারা। গত ২৩ অক্টোবর সোহর ক্লাবের বিপক্ষে ২–০ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা, যা আল-নাসরের কাছে ১–০ গোলের ধাক্কা সামলে উঠতে সাহায্য করেছে তাদের। বর্তমানে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল-নাহদা ক্লাবের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে তারা।

তবে ঘরোয়া ফুটবলের এই ছন্দ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ দেখাতে পারছে না ওমানের এই শক্তিশালী দলটি। ‘গ্রুপ ডি’-তে আল-শোর্তা এসসির কাছে ১–০ এবং আল-হুসেইন এসসির কাছে ৩–০ গোলে হেরে বিপর্যয়ে পড়েছে তারা। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট বা গোল না পেয়ে গ্রুপ টেবিলের একেবারে নীচে রয়েছে ওমানের অন্যতম সেরা এই ক্লাব।

তারকাখচিত স্কোয়াড ও প্রধান খেলোয়াড়রা

হেড কোচ ফ্লোরিন মোত্রকের অধীনে আল সিবের বর্তমান স্কোয়াডটি ওমান জাতীয় ফুটবল দলের মেরুদণ্ড বলা চলে। দলটিতে বর্তমানে প্রায় ১১ জন জাতীয় ফুটবলার খেলছেন।

আক্রমণভাগ: ওমান জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড আব্দুলআজিজ আল-মুকবলি, গ্যাবনের জাতীয় দলের অ্যাক্সেল মেইয়ে এবং নাইজেরিয়ান উইঙ্গার প্রিন্স আগ্রেজ আল সিবের আক্রমণভাগের মূল ভরসা।
মাঝমাঠ: জহির আল-আঘবারি এবং আরশাদ আল আলাভির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহ ফাওয়াজ মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন। নাইজেরিয়ান অ্যাঙ্কর অগাস্টিন ওলাদাপো মাঝমাঠে শারীরিক শক্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখেন।
রক্ষণভাগ ও গোলকিপার: ওমান জাতীয় দলের দুই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আল-মাসলামি এবং আহমেদ আল-খামিসি রক্ষণভাগের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আর গোলপোস্টের নিচে বিশ্বস্ত হাত হিসেবে আছেন ইব্রাহিম আল-মুখাইনি।
২০২২ সালে ওমান লিগ, সুলতান কাবুস কাপ এবং এএফসি কাপ জিতে ঐতিহাসিক ত্রয়ী জয় করা আল সিবের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ এশীয় মঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর। আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আল সিব-এর বিরুদ্ধে কেমন হতে পারে ইস্টবেঙ্গলের কৌশল ও পরিকল্পনা?

* নতুন কোচের আগমনে সন্ধিক্ষণ: আল সিব-এর রোমানিয়ান হেড কোচ ফ্লোরিন মোত্রক মাত্র কিছু দিন হল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি দলটিকে পুরোপুরি নিজের কৌশলে গুছিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায়, ইস্টবেঙ্গল কাউন্টার-অ্যাটাকের মাধ্যমে দ্রুত আক্রমণ শানিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করতে পারে।

* দুই দলের খেলার ভিন্ন শৈলী: মোত্রকের অধীনে আল সিব ইদানীং সাধারণত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলছে। তাদের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশেই বেশ কম গোল হয়েছে। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো বেশ হাই-স্কোরিং হচ্ছে, যেখানে ম্যাচ প্রতি গড়ে ৫টি করে গোল করেছে তারা। এটা ইস্টবেঙ্গলের প্লাস পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে এবং এই পরিসংখ্যান তাদের মানসিক ভাবে চাঙ্গা রাখতে পারে।

* বাঁচা-মরার লড়াই: গ্রুপ ‘ডি’-তে আল সিব টেবিলের তলানিতে রয়েছে, একটিও পয়েন্ট পায়নি। ইস্টবেঙ্গলও তাদের গ্রুপ পর্বে প্রথম জয়ের খোঁজে মরিয়া। ফলে এশীয় মঞ্চে টিকে থাকার লড়াইয়ে দুই দলই যথাসম্ভব আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামবে।

* স্কোয়াডের অভিজ্ঞতা: আল সিব তাদের ঘরের মাঠে ওমান জাতীয় দলের অভিজ্ঞ তারকা যেমন—মোহাম্মদ আল-মাসলামি এবং আব্দুলআজিজ আল-মুকবালির ওপর ভরসা রাখবে। বিপরীতে ইস্টবেঙ্গল তাদের মাঝমাঠের দখল নিতে দানি রামিরেজ, জিকসন সিং-দের দিয়ে ওমানের ডিফেন্স ভাঙার ছক কষবে। এই খেলোয়াড়রা যদি নিজেদের সেরা ফর্মে থাকে, তা হলে রামিরেজরা সমস্যায় পড়তে পারে।