• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 29 September, 2026

বার্সা সমর্থকেরা খেপে আগুন! যুবভারতীতে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চান না আনসেলোত্তির ব্রহ্মাস্ত্র রাফিনহা?

ব্রাজিলের মিডিয়ায় খবর, আজ, মঙ্গলবার ব্রিসবেনের ম্যাচে আনসেলোত্তি দলে সাত-সাতটা পরিবর্তন করার কথা ভেবে রেখেছেন। তা সত্ত্বেও রাফিনহাকে প্রথম দলেই রেখেছেন এবং তাঁর সম্ভাব্য লাইন-আপে নাকি রাফিনহার ভূমিকা হবে সেন্টার ফরোয়ার্ডের

বার্সা সমর্থকেরা খেপে আগুন! যুবভারতীতে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চান না আনসেলোত্তির ব্রহ্মাস্ত্র রাফিনহা?

Photo: Representational Image

একদিকে ক্লাব ফুটবল, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল— কোনদিকে যাবেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনহা (Raphinha) ? অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাউন্সভিলের প্রথম ম্যাচে রাফিনহাকে (Raphinha) পুরো ৯৫ মিনিট মাঠে রেখেছিলেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনসেলোত্তি (Carlo Ancelotti)। সেখানে এন্দ্রিক ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ৬৫ মিনিটের পরে তুলে নেন। ব্রাজিলের মিডিয়ায় খবর, আজ, মঙ্গলবার ব্রিসবেনের ম্যাচে আনসেলোত্তি (Carlo Ancelotti) দলে সাত-সাতটা পরিবর্তন করার কথা ভেবে রেখেছেন। তা সত্ত্বেও রাফিনহাকে (Raphinha) প্রথম দলেই রেখেছেন এবং তাঁর সম্ভাব্য লাইন-আপে নাকি রাফিনহার (Raphinha) ভূমিকা হবে সেন্টার ফরোয়ার্ডের।

এর কারণ, অবশ্যই রাফিনহার (Raphinha) ফর্ম। ভিনিসিয়াস, এন্দ্রিক নিজেদের সেরা ফর্মে নেই। কিন্তু রাফিনহা (Raphinha) আছেন। বার্সেলোনার হয়েও তিনি অসাধারণ ফর্মে ছিলেন। লা লিগায় সাতটি ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকেই আক্রমণের প্রধান দায়িত্ব দিয়েছেন আনসেলোত্তি (Carlo Ancelotti)।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের পর আনসেলোত্তি অভিযোগ করলেন মাঠের অবস্থা নিয়ে, যুবভারতীতে এসে কী বলবেন?

ব্রিসবেনের ম্যাচের আগে রাফিনহা (Raphinha) সম্পর্কে আনসেলোত্তি বলেছেন, ‘বর্তমানে রাফিনহাকে (Raphinha) ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে তুলনা করাটা কঠিন। কারণ, দু’জনের পরিস্থিতি কিন্তু আলাদা। রাফিনহা (Raphinha) এমন একটি পজিশনে অসাধারণ কিছু করে দেখাচ্ছে, যেখানে ওকে সাধারণত দেখা যেত না। তবে ধীরে ধীরে মনে হচ্ছে, পজিশনটি যেন ওর নিজের জায়গা হয়ে উঠছে। ভিনিসিয়াসের ক্ষেত্রে সম্ভবত এখন একটু কঠিন সময় চলছে। তবে আমরা নিশ্চিত, ভবিষ্যতে দু’জনেই দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠবে’।

রাফিনহা (Raphinha) সম্পর্কে ব্রাজিল কোচের ধারনা যখন এ রকমই, তখন তাঁকে যে বেশিক্ষণ মাঠে রাখবেন, এমন ভাবা যেতেই পারে। আজকের ম্যাচেও রাফিনহা (Raphinha) পুরো সময় খেললে তাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখানেই বাধছে গণ্ডগোল।

পরপর দুটো ম্যাচে পুরো সময় খেলার পরে রাফিনহাকে (Raphinha) কি ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে দেখা যাবে? ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে বার্সেলোনার সমর্থকেরা ঝড় তুলেছেন। আনসেলোত্তিকে (Carlo Ancelotti) রীতিমতো তুলোধনা করছে তারা। কেন বার্সার সেরা গোলদাতা রাফিনহাকে (Raphinha) ফ্রেন্ডলি ম্যাচে এ ভাবে নিংড়ে নেওয়া হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসে ৪০ পেরোল ভারতের পদক, শুটিং, অ্যাথলেটিক্স থেকে সাত, বক্সিংয়েও পদক নিশ্চিত

আসলে অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচে হারতে হারতে বেঁচে যাওয়ার পর ব্রিসবেনের ম্যাচের আগে বেশ চাপে পড়েছেন আনসেলোত্তি (Carlo Ancelotti)। তাঁকে নিয়ে জোরদার সমালোচনা চলছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে। এই অবস্থায় রাফিনহা (Raphinha)-ই তাঁর ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে উঠেছেন। তাই ম্যাচের কোনো সময়েই রাফিনহাকে (Raphinha) তুলে নেওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন না তিনি। ভিনি ও এন্দ্রিক সেরা ফর্মে না থাকায় পুরো চাপটা গিয়ে পড়ছে রাফিনহার (Raphinha) উপর। গত ম্যাচে রায়ানের সন্মান বাঁচানো গোলেও রাফিনহা (Raphinha)-ই সাহায্য করেছিলেন। তাই তাঁর উপর আরো নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন আনসেলোত্তি (Carlo Ancelotti) ।

রাফিনহা (Raphinha) বাধ্য ছেলের মতো কোচের কথা মেনে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পুরো ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু আগামী শনিবার ভারতের বিরুদ্ধে কলকাতায় তিনি শুরু থেকে খেলতে রাজি হবেন কি না, সেটাই দেখার। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই খবর রটেছে, কলকাতার ম্যাচে তিনি শুরু থেকে খেলতে চান না। বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও নাকি তাঁকে ভারতের বিরুদ্ধে বেশিক্ষণ মাঠে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, সামনেই দীর্ঘ ক্লাব মরসুম, অনেক ম্যাচ। এই অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচেই পুরো সময় খেলার পর কলকাতায় রাফিনহাকে আর না খেলানোর দাবি তুলেছে বার্সার ফ্যান ক্লাবগুলো।

আনসেলোত্তি (Carlo Ancelotti) যদিও সমাজমাধ্যম, সংবাদমাধ্যমে কে কী বলল, তার ধার ধারেন না। তবে তিনি খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে নেওয়ার ব্যাপারে যতটা সিরিয়াস, তাদের বিশ্রাম দেওয়ার ব্যাপারেও ততটাই। তাই তিনি নিজেই হয়তো কলকাতার ম্যাচে রাফিনহাকে বিশ্রাম দিতে পারেন। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে ব্রিসবেনের ম্যাচের ওপর। এই ম্যাচে যদি অস্ট্রেলিয়ার জয়ের হাসি মুখে নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে, তা হলে কলকাতায় দলের সেরা ফরোয়ার্ডকে খেলতে দেখা নাও যেতে পারে বা খুবই অল্প সময় মাঠে থাকতে দেখা যেতে পারে।

দেখুন: