বালিগঞ্জে ভুয়ো কলসেন্টারের হদিশ। বিদেশি নাগরিকদের টেলিকম পরিষেবা দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চালানোর অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার থানার তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বালিগঞ্জের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তালতলা থেকে আরও এক জনকে ধরা হয়। ধৃতেরা হল ফিরদৌস ইকবাল, শেখ সাজ্জাদ, রূপম টিমোথি বিশ্বাস ও শাব্বির আলম।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ব্রিটেন-সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিশানা করত এই চক্র। কাস্টমার কেয়ার বা ওয়্যারলেস ডেটা পরিষেবা দেওয়ার নাম করে বিদেশিদের ফোন করা হত। কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, কার্ডের তথ্য ও পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের কয়েক জনের বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা ছিল। পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে ধাপে ধাপে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করা হত। বিদেশিদের ফোন নম্বর কোথা থেকে সংগ্রহ করা হত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডার্ক ওয়েব থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
পুলিশের অনুমান, এই চক্রের পিছনে বিহারের এক বাসিন্দা থাকতে পারেন। তিনি সরাসরি ফোন করতেন, নাকি আড়াল থেকে পুরো চক্র পরিচালনা করতেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল চক্রী ও চক্রের অন্য সদস্যদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, চক্রটির সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারে। দেশের বাইরে থেকে কেউ তথ্য সরবরাহ করত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া বৈদ্যুতিন যন্ত্র পরীক্ষা করে কলের তথ্য, যোগাযোগের নথি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
পুলিশের অনুমান, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস ও লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আয়কর দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
ঘটনায় সাইবার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নম্বর ৪৪/২৬। কত দিন ধরে চক্রটি সক্রিয়, কত জন বিদেশি ও ভারতীয় নাগরিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং এর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।




