বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নতুন কন্ট্রোল রুম উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরক্ষা ভবনে এই নতুন লাইভ কন্ট্রোল রুম গড়ে তোলা হল। যা সামনে নিয়ে এলেন তিনি। রাজ্যজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর নজরদারির জন্য নতুন কন্ট্রোল রুম চালু করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এই কন্ট্রোল রুম থেকে রিয়েল-টাইমে রাজ্যের নানা এলাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। বিশ্বকর্মা পুজোর দিনকেই উদ্বোধনের দিন বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তারই সাক্ষ্য দেখা গেল এবার। শুক্রবার একটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।
কলকাতার রাস্তায় আবর্জনা থেকে অবৈধ পার্কিং-সহ সমস্ত বেআইনি কাজ ঠেকাতে তৎপর নেতা-মন্ত্রীরা। কিন্তু তারপরও দেখা যায়, রাতের রাজপথে ইচ্ছাকৃত যানজট তৈরি করা হচ্ছে। আর তার ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যায় পড়ছেন আমজনতা। কে বা কারা এই ঘটনার নেপথ্যে সেটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। এবার এই লাইভ ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে ওই ষড়যন্ত্রকারীদের দিকে নজর রাখা হবে। শুক্রবার উদ্বোধনের পর এমন কথাই জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হচ্ছে। এবার থেকে যানজট মোকাবিলায় লাইভ কন্ট্রোল রুম কাজ করবে। ইচ্ছাকৃতভাবে যানজট দেখলে টোল ফ্রি ১৮০০৩৪৫৮৯২২ নম্বরে জানাতে পারবেন নাগরিকরা। কেন ট্রাফিকের চাপ সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’
কন্ট্রোল রুমে রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং এলাকায় থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক বিষয়ক ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও যানজট, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও সমস্যা তৈরি হলে দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা যাবে। এই অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে কলকাতা থেকে দার্জিলিং সর্বত্র চলবে জোর নজরদারি। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফরাক্কা, পালসিট, ডানকুনি, ধূলাগড় চেকপোস্ট দেখেন। আর তারপর শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘রাস্তার ৬০ শতাংশ অংশে গাড়ি পার্ক করা হচ্ছে। আগের সরকার পুলিশকে টাকা তুলতে বাধ্য করেছিল। আমরা এসব বন্ধ করে দিয়েছি। পাহাড়ে যানজট নিয়েও আমি চিন্তিত। কিন্তু পাহাড়ে পার্কিংয়ের জন্য জমি দেখতে বলেছি। বেশ কিছু জায়গার ট্রাফিক চেকপোস্ট আরও শক্তপোক্ত করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত সংখ্যক ট্রাফিক মোতায়েন করা দরকার। আবার যেখানে এত ট্রাফিক মোতায়েন সম্ভব হবে না সেখানে অটোমেটেড ট্রাফিক সিস্টেমের বন্দোবস্ত করা হবে।’
তাছাড়া নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থায় রাজ্যের নানা প্রান্তের ট্রাফিক পরিস্থিতি একই জায়গা থেকে নজরে রাখা যাবে। ট্রাফিক বিষয়ক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ এবং পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে যানজট বা পথ দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘রাস্তায় যানজটে যাতে কেউ কোনও সমস্যায় না ভোগেন তার জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। পাহাড়ে পার্কিংয়ের সুবন্দোবস্ত না থাকায় ৬০ শতাংশ রাস্তায় পার্কিং করা হয়। তার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পর্যটকরা সমস্যায় পড়েন। এই সমস্যা দূর করতে পাহাড়ের প্রকৃতি মেনে পার্কিংয়ের বন্দোবস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ আগামী ৭ অক্টোবর পাহাড় সফরে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর বলে সূত্রের খবর।




