সাতসকালেই প্রকাশ্যে এল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। কাটোয়ার বাঁদরা গ্রামে গলা কেটে খুন করা হয়েছে এক মহিলাকে বলে অভিযোগ। মৃত মহিলার নাম চিন্তা মণ্ডল (৪৮)। এই ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। শুক্রবার সকালে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় এক মহিলার রক্তাক্ত মৃতদেহ। ধারালো কিছু দিয়ে ওই মহিলার গলা কেটে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। কে খুন করল? খুনের নেপথ্য কারণ কী? এইসব প্রশ্নের এখন উত্তর খুঁজছে জেলা পুলিশ-প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম চিন্তামনি মণ্ডল। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায়। পারিবারিক বিবাদের জেরে এই খুন? নাকি অন্য কোনও কারণ? সেইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত করছে পুলিশ। এদিন ঘরের মেঝেতেই মহিলার দেহটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি এবং থানার আইসি-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। তারপর দেহটিকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কাটোয়া থানার বাঁদরা গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় বাড়ি ওই মহিলার। পুলিশ নিহতের দুই আত্মীয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পারিবারিক বিবাদের জেরেই মহিলাকে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চিন্তামনি মণ্ডলের স্বামী দু’বছর আগে মারা যান। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। ছেলের পাঠানো টাকাতেই চিন্তামনির সংসার চলত। তাঁর বাড়ির পাশেই ভাসুর প্রশান্ত মণ্ডলের পরিবারও থাকেন। সেখানে একটা খুন হয়ে গেল আর কেউ টের পেল না! এটাতেই সকলে আশ্চর্য হচ্ছেন।
তাছাড়া চিন্তামনির স্বামী সুশান্ত মণ্ডল মারা যাওয়ার পর থেকেই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ওই মহিলার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ঘোষের বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং ছেলে মনোজিৎ মণ্ডল কেরলমে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। এই ঘটনায় মৃতের দাদার অভিযোগ, সম্পত্তির জেরে তাঁর বোনকে অত্যাচার করত তারই ভাশুর। এই খুনের পিছনে ভাশুরের হাত থাকতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই মহিলার ভাশুর ও তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। সকাল হয়ে গেলেও চিন্তামনিকে দেখা যাচ্ছিল না। তাঁকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশী যমুনা মণ্ডল আর এক বধূ ওই বাড়িতে ডাকতে যান। সেখানে তিনি দেখেন ঘরের দরজা খোলা। ঘরে ঢুকতেই মেঝেতে পড়ে রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। মৃতার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। গলাতেও কাটা দাগ আছে। পুলিশ মৃতদেহের পাশ থেকে একটি ব্লেড পেয়েছে। পাশেই পড়েছিল ওই মহিলার মোবাইল ফোনও। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা রাতের অন্ধকারে ঘরে ঢুকে মহিলাকে খুন করা হয়েছে।




